Aaj lndia Desk, কলকাতা: বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় ১১ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Rape-Murder Case) তদন্তে বড় অগ্রগতি । ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের পর থেকেই তদন্তে গতি বাড়ে। সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় প্রথমে দু’জনকে আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা আনন্দ সর্দারের খোঁজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবার আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে সিট। তদন্তকারীদের আশা, ধৃতকে জেরা করে এই ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।
শনিবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ১১ বছরের ওই কিশোরী। পরদিন সকালে ধপধপি এলাকার একটি পুকুর থেকে তার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাকে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবারই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। সিট গঠনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে অগ্রগতি আসে এবং মূল অভিযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ে।
এদিকে সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী( Suvendu Adhikari) জানান, ঘটনার পর তিনি নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, পরিবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছে এবং তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।


