Aaj India Desk, কলকাতা: রাস্তা বন্ধ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালীঘাট (Kalighat)। এদিন অভিষেকের বাড়ির সামনে নতুন করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে রাস্তা আটকে রাখায় সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এমনকী, রাস্তা বন্ধ থাকায় কালীপুজোর প্রতিমাও ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারছেন না বিক্রেতারা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে রাস্তা খুলে দিতে হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই বাড়ি থেকে মাইক হাতে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সকলের কাছে রাস্তা ফাঁকা রাখার আবেদন জানান। পাশাপাশি বিজেপি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মমতা বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই এলাকায় অশান্তি চলছে। তাঁর অভিযোগ, রাতে কয়েকজন মহিলার শাঁখা ভাঙা হয়েছে। তিনি জানান, কালীপুজোর আগে অনেকেই এই এলাকা থেকে প্রতিমা কিনতে আসেন। তাই যাঁরা অভিষেককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন, তাঁদের একদিকে থাকার অনুরোধ করেন তিনি। অন্যদিকে প্রতিমা নিয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা খোলা রাখার কথা বলেন। ঠাকুরের গাড়ি যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করতে বলেন।
একইসঙ্গে মমতা স্পষ্ট জানান, অভিষেককে শুভেচ্ছা জানাতে আসা মানুষদের স্বাগত জানানো হবে, তবে কোনওভাবেই হামলা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কালীঘাট থানার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির সামনে বেআইনিভাবে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাড়ির ভিতরে কালীপুজোর আয়োজন এবং গাড়ি যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে কালীঘাট মন্দিরের সামনে পুজো করার কথাও বলেন মমতা।
এদিকে শুক্রবার রাতের ঘটনার পর এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। তার মধ্যেই শনিবার দুপুরে কেক হাতে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন কয়েকজন মহিলা তৃণমূল সমর্থক। পুলিশ তাঁদের ভিতরে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে শুরু হয় বচসা। পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দোকানপাটের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি কালীপুজোর প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত থেকেই অভিষেকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে। রবিবার কালীপুজো থাকায় প্রতিমা কেনার জন্য বহু মানুষ ওই এলাকায় আসছেন। কিন্তু ব্যারিকেডের কারণে প্রতিমা নিয়ে যেতে পারছেন না ক্রেতারা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা অভিষেকের বাড়ির দিকে এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তা নিয়েই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়।
এই ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পটুয়াপাড়ার রাস্তা আটকে রাখার কারণে কালীপ্রতিমা প্যান্ডেলে নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কে আগে অভিষেককে কেক খাওয়াবে, তা নিয়েও ঝামেলা হয়েছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে অনুগামীদের ভিড় জমতে শুরু করে। সেই সময় কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক কালীপ্রতিমা আনতে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া এবং তাঁর ব্যানার ও কাটআউট ছেঁড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
এরপর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। তাঁকে ঘিরেও শুরু হয় স্লোগান-পালটা স্লোগান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। অভিষেক নিজের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির নিচে বসে পড়েন। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ তাঁকে ভিতরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি প্রথমে রাজি হননি। পুলিশের সঙ্গেও তাঁর বচসা হয়। পুলিশের সামনেই মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। শেষ পর্যন্ত শনিবার সকাল ৬টা নাগাদ তিনি বাড়ির ভিতরে ফিরে যান।
রাতের ঘটনার পর শনিবার দুপুরে অভিষেকের বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটে থাকার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অভিষেককে নিশানা করা হচ্ছে। পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী।


