কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে ‘শূন্যের কলঙ্ক’ ঘোচাতে মরিয়া বাম শিবির। দলের বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি তরুণ তুর্কিদের সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে লাল-সৈন্য সাজিয়েছে বামফ্রন্ট। পথে নেমে জনসংযোগ বাড়িয়ে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে মীনাক্ষী, কলতান, দীপ্সিতার মত প্রার্থীরা। তবে ভোটের আগেই সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Mohammed Salim) মুখে ‘জয়ের খুশি’।
শুক্রবার সংবাদসংস্থার সাক্ষাৎকারে মহম্মদ সেলিম বলেন, “বাংলার মানুষ একবার আঘাত পেলে দু-বার ভেবে পদক্ষেপ নেন। কাজেই আসন্ন নির্বাচনে মন্দির-মসজিদ রাজনীতির ফাঁদে প্যাঁ দেবেন না পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।” শুধু তাই নয়, বামেদের তোলা প্রশ্ন গুলোকেই হাতিয়ার করে বঙ্গে সভা চালাচ্ছে বিজেপি, বলেন সেলিম (Mohammed Salim) ।
X Link: https://x.com/PTI_News/status/2045078468740931785
বর্ষীয়ান বাম নেতার কটাক্ষ, “বরং বিজেপি নেতারা যখন কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে আসছেন, তখন তারা বাধ্য হচ্ছেন কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং দুর্বল নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কথা বলতে। যদিও তাঁরা নিজেদ্রে রাজ্যগুলতেই তা করতে পারেনি। তবে এটি বামপন্থীদের জয়। কারণ আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে ভোট ধর্মীয় ভিত্তিতে বা “মন্দির-মসজিদ” রাজনীতির ওপর হওয়া উচিত নয়। বরং ভোট হওয়া উচিত কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি সংকট এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক চাহিদার ভিত্তিতে।” সেলিমের (Mohammed Salim) সাফ সাফ বক্তব্য, বিজেপি হোক বা তৃণমূল, সিপিএমের দর্শানো পথ ছাড়া তাঁদের কাছে নির্বাচনে লড়ার কোনও অস্ত্র নেই।
পোড় খাওয়া রাজনৈতিকের এই মন্তব্য থেকে একটা প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বাংলার সমস্যা গুলো তুলে ধরে নিজেদের ফলাফল কি আদৌ ভালো করতে পারবে সিপিএম? নাকি সেই ইস্যুগুলোকেই হাতিয়ার করে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে যাবে বিজেপি? সিপিএম কি তাহলে ‘কিং মেকার’-এর ভূমিকা পালন করছে? না কি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং কর্মীদের মনোবল বাড়াতে ভোট যুদ্ধে আসন সংখ্যা নয়, বরং নৈতিক জয়কেই আসল ‘জয়’ বলে ভোটের আগেই নিদান দিচ্ছেন রাজ্য সম্পাদক (Mohammed Salim)?


