Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজারহাট-নিউটাউন (Newtown) বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। একদিকে সিপিএমের সপ্তর্ষি দেব, অন্যদিকে বিজেপির পিয়ুষ কানোরিয়া, আর তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। এর মধ্যেই তৃনমূলের প্রার্থীর মুখে বিস্ফোরক মন্তব্য শুনে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
নির্বাচন যত এগোচ্ছে, রাজারহাট-নিউটাউনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ততই তীব্র হচ্ছে। তিনটি বড় দলের প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ইস্যু থেকে শুরু করে প্রার্থী নির্বাচন সব কিছুই এখন প্রচারের কেন্দ্রে। এর মধ্যে সরব হয়ে বিজেপি প্রার্থী পিয়ুষ কানোরিয়াকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “আমি নিউটাউনের মানুষের প্রার্থী। গরিব মানুষের প্রার্থী। নিউটাউনের বিজেপি কর্মীদেরও আক্ষেপ, এখানে কি একজনও বাঙালি প্রার্থী ছিল না?” তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে একজনকে এনে দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি নিজের ভোটটাও দিতে পারবেন না, এখানকার ভোটারই নন। এতে প্রমাণ হয় বিজেপি বাঙালিদের সেবা করতে চায় না।”
এরপরে নিজের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি আগে বামপন্থী ছিলাম। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বামপন্থা মনে করি।” এই মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে সূক্ষ্ম কটাক্ষের সুর।
বিরোধীদের বক্তব্য, এক সময় যাঁরা লাল পতাকার নিচে ‘বামপন্থা’ খুঁজতেন, এখন তাঁদেরই কেউ কেউ সবুজ-সাদা শিবিরে সেই একই দর্শনের সন্ধান পাচ্ছেন।রাজনৈতিক রঙ বদলালেও আদর্শ একই থাকে কিনা তা নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, এটি আসলে বাংলার বহুল পরিচিত ‘আইডিওলজি আপডেট ভার্সন’, যেখানে সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাম, ডান, বা মাঝামাঝি সবই একসঙ্গে মিলে যায়।
সব মিলিয়ে, রাজারহাট-নিউটাউনের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে মতাদর্শ, প্রার্থী নির্বাচন এবং উন্নয়নের প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। প্রচারের ভাষা যত তীক্ষ্ণ হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এ লড়াই শুধু ভোটের নয়, রাজনৈতিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতারও পরীক্ষা। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই এই ত্রিমুখী লড়াই কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।


