Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-কে আইনি ভাবে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-কে ইচ্ছাকৃত ভাবে অপমান করা, গানটি পরিবেশনে বাধা দেওয়া কিংবা গান চলার সময়ে ইচ্ছে করে কোনও জমায়েতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Punishable offence) হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিরই সাজা হতে পারে। এর আগে ২৯ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয়েছিল। পরে লোকসভাতেও সেটি অনুমোদিত হয়। সংসদের দুই কক্ষে বিলটি পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলায় এবার তা আইনের অংশ হয়ে গেল।
এত দিন ১৯৭১ সালের ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ’ আইনে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’ সরাসরি এই আইনের আওতায় ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় গানকেও সেই আইনি সুরক্ষার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।
চলতি বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর রচনার ১৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই কারণেও নতুন আইনি পরিবর্তনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে গানটি রচনা করেন। পরে ১৮৮২ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে গানটি প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করেছিলেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ধীরে ধীরে ‘বন্দে মাতরম’ দেশাত্মবোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার পরে গানটিকে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয়। অন্যদিকে ‘জন গণ মন’ দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
নতুন সংশোধনের ফলে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গানের আইনি সুরক্ষার মধ্যে থাকা পার্থক্য অনেকটাই কমে গেল। শুধু গানটির অসম্মান করাই নয়, সেটি পরিবেশনের সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা দেওয়া বা গোলমাল তৈরি করার ঘটনাও এবার আইনের আওতায় আসবে।
‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা এবং আইনি সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গানটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই পুরনো আইনে এই সংশোধন আনা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর ‘বন্দে মাতরম’-এর ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা পরিবেশনে বাধা দেওয়া শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন থাকল না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন কাজের জন্য এবার ফৌজদারি শাস্তিও হতে পারে।


