Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের মাটিতে আবারও ফিরে এল পুরনো এক আতঙ্কের ছায়া। ২০০২ সালের ধূপগুড়ির কেএলও হামলার প্রসঙ্গ তুলে ১৫ আগস্টের মধ্যেই বাঙালিদের উত্তরবঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জলপাইগুড়ির তৃণমূল নেতা সুখদেব রায় (Sukhdev Roy)। তাঁর সেই হুমকি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ বাসিন্দাদের মনেও তৈরি হয়েছে ভয়।
২০০২ সালের ১৭ অগস্ট ধূপগুড়ির সিপিআইএম পার্টি অফিসে কেএলও জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এখনও পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি লোহার আলমারিতে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন সুখদেব রায়। সেই ভিডিয়োয় উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী বাঙালিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকা ছাড়ার বার্তা দেন তিনি।
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর একদল যুবক ধূপগুড়ি থানায় সুখদেব রায়ের (Sukhdev Roy) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ নিজেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিয়োটির বক্তব্য এবং তার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সুখদেবের (Sukhdev Roy) এই মন্তব্যের পর সিপিএম ও বিজেপি উভয় দলই তার বিরোধিতা করেছে। সিপিআইএম দলের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উস্কানির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশও নষ্ট করতে পারে। তাঁর দাবি, বাংলাকে ভাগ করার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি সক্রিয় হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।সিপিআইএমের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, সুখদেব রায়ের কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, প্রশাসনের তা তদন্ত করা উচিত। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মাধবচন্দ্র রায়েরও অভিযোগ, এর আগেও সুখদেব রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।


