Aaj India Desk, হুগলি: ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে একের পর এক সমস্যা তৈরি হয়েছে। দলের মধ্যে বিদ্রোহের পাশাপাশি নাম ও প্রতীক (Name and Symbol) নিয়েও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরের সঙ্গে আইনি লড়াই চলছে। ফলে আগামী দিনে দলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রীরামপুরের সভা থেকে দিল্লি দখলের বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
শনিবারের সভায় একাধিকবার জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভূমিকার কথা বলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, বাংলার ক্ষমতা অন্যরা নিয়েছে, এবার দিল্লির ক্ষমতা নেওয়ার পালা তাঁদের। মমতা বলেন, “আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব।” একইসঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রের বর্তমান সরকার টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, SIR-এর তালিকা বাতিল করে পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে এবং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মমতার এই বক্তব্যকে ঘিরে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ কয়েক বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতা বারবার দাবি করেছিলেন, ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিজেপির নেতৃত্বাধীন NDA সরকার টিকবে না। সেই সময় জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থানও ছিল অনেকটাই শক্তিশালী। মমতাকে বিরোধী জোটের মুখ করার দাবিও তুলেছিল তাঁর দল।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। দলের ভিতরে বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং মমতার একাধিক পুরনো সহযোগীও বিরোধী শিবিরে চলে যান। বর্তমানে অল্প কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ এবং নতুন মুখকে নিয়েই তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন এগোচ্ছে। লোকসভাতেও তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দলবদল করে NDA-র সঙ্গে গিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাও সামনে এসেছে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে মমতা শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। রেজিনগরেও প্রার্থীকে রাজি করাতে দলের তরফে যথেষ্ট চেষ্টা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের দখলে থাকা একাধিক পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিও হাতছাড়া হয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় রাজনীতিতে বড় লক্ষ্য সামনে রাখছেন মমতা। শ্রীরামপুরের সভায় তিনি দাবি করেন, দিল্লি, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারেও পরিবর্তনের হাওয়া উঠেছে। তাঁর কথায়, সেই হাওয়ায় অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে।
তাই এখন রাজনৈতিক মহলে মূল প্রশ্ন, রাজ্যেই যখন দলের সংগঠন ধরে রাখা নিয়ে একের পর এক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে, তখন কোন রাজনৈতিক সমীকরণকে ভরসা করে দিল্লি দখলের বার্তা দিচ্ছেন মমতা? জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর এই লক্ষ্য বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটাই এখন দেখার।


