কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর স্টেশনগুলির ভোলবদলে নেমেছে নতুন বিজেপি সরকার। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে স্টেশনের বাইরে রেলের অধিকৃত জায়গা থেকে হকার উচ্ছেদকে (Hawker eviction) কেন্দ্র করে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। দোকানপাট ভেঙে দেওয়া বা খালি করার নোটিশ ধরিয়ে দেওয়ার পর হাজার হাজার হকার-দোকানদারের রুটিরুজিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সেই আবহেই স্টেশনকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা সামনে এল। জানা গিয়েছে, যাদবপুর স্টেশনের প্রায় ৩ হাজার বর্গমিটারের ‘মিনি মার্ট’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। কিন্তু এখানেই উঠছে নতুন প্রশ্ন! উচ্ছেদ হওয়া হকারদেরই (Hawker eviction) কি এবার বৈধ ভাবে দোকানের জায়গা দেওয়া হবে?
রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাদবপুর স্টেশনে প্রায় ৩,০৪৫ বর্গমিটার এলাকায় আধুনিক শপিং হাব তৈরি করা হবে। একই ছাদের নীচে থাকবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে খাবারের দোকান। ছোট ব্যবসায়ীদের স্টল খোলার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে রেল। প্রতিটি স্টলের আয়তন সর্বোচ্চ ৮০ বর্গফুট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এখানেই উচ্ছেদ হওয়া হকারদের (Hawker eviction) প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, স্টেশন চত্বর থেকে জবরদখল সরানোর পর একদিকে যেমন যাত্রী চলাচলের জায়গা প্রশস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন বহু ছোট ব্যবসায়ী।
হকারদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা কতটা?
রেলের ঘোষণায় ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য স্টল বরাদ্দের কথা বলা হলেও উচ্ছেদ হওয়া হকারদেরই (Hawker eviction) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন শপিং হাবে কারা দোকান পাওয়ার সুযোগ পাবেন, সেই প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
যদি উচ্ছেদ হওয়া হকারদের একটি অংশ এই স্টলগুলিতে জায়গা পান, তাহলে একসঙ্গে দু’টি সমস্যার সমাধান হতে পারে, একদিকে বেআইনি দখলমুক্ত থাকবে স্টেশন চত্বর, অন্যদিকে জীবিকা হারানো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হতে পারে বৈধ ব্যবসার সুযোগ।
যাত্রীদের সমস্যাও কি মিটবে?
হকার উচ্ছেদের (Hawker eviction) পর যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, স্টেশনে আগের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুবিধা আর নেই। নতুন শপিং হাব চালু হলে সেই সমস্যাও অনেকটা মিটতে পারে। রেলের পরিকল্পনায় শুধু দোকান নয়, যাত্রীদের জন্য চলাচলের জায়গা, বিশ্রাম এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন টিকিট কাউন্টার এবং লিফট-সহ ফুট ওভারব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, জবরদখলমুক্ত স্টেশন, বৈধ দোকান এবং যাত্রী পরিষেবা, তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই! যে হকাররা এতদিন স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করতেন, নতুন ‘মিনি মার্ট’-এর দোকানের চাবি কি তাঁদের হাতেই উঠবে? এখন সেই উত্তরেই নজর যাদবপুরের।


