Aaj India Desk, কলকাতা : ‘অলিপাব’ থেকে ‘বাটন’, কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই বিতর্ক, দুই ভাইরাল মুখ। তখন প্রশ্ন উঠেছিল ঘটনা, উদ্দেশ্য আর প্রচার নিয়ে। এবার ভোটের হিসাবের খাতা খুলতেই সেই দুই নাম ফের সামনে! নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের তালিকায় ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) ও ‘শমীক অধিকারী’ নামে যথাক্রমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার এবং ১৩ লক্ষ টাকার খরচের উল্লেখ রয়েছে। তথ্য প্রকাশ হতেই এবার ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে।
কমিশনের নথিতে কাদের নাম ?
বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের প্রকাশিত তালিকায় বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের নাম রয়েছে। বিজেপির প্রচার সংক্রান্ত খরচের তালিকায় সায়ক চক্রবর্তীর নামে ২.৫০ লক্ষ টাকা এবং শমীক অধিকারীর নামে ১৩ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে শুদ্ধশীল ঘোষের নামে ৫১ লক্ষ টাকা, মানব গুহের নামে ২২ লক্ষ টাকা এবং পিনাকীর নামে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার উল্লেখ রয়েছে।
কেনো তৈরি হয়েছে বিতর্ক ?
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোরকদমে প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। তবে প্রচার কাজে ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করা কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে সেই প্রচার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি গঠন করায় এবার ক্ষিপ্ত জনসাধারণ।
সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) নামটি ২০২৬ সালের শুরুতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছিল। পার্ক স্ট্রিটের ‘অলিপাব’ সংক্রান্ত ঘটনায় তাঁর করা অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ওই ঘটনায় খাবার পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন সায়ক। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কাও তৈরি করেছিল বলে সে সময় বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। এখন নির্বাচন কমিশনের ব্যয়ের তালিকায় একই নাম উঠে আসায় সেই পুরনো বিতর্ক ফের আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, ‘বাটন’ নামে একটি রিলকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় আলোচনায় এসেছিলেন শমীক অধিকারী। নির্বাচনী প্রচারের আবহে তাঁর ওই কনটেন্ট নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁকে ভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারও করা হয়।
‘অলিপাব’ থেকে ‘বাটন’, বিতর্ক থেকে ভাইরাল, আর ভাইরাল থেকে ভোটের প্রচার! সবটাই কি নিছক কাকতালীয় নাকি সাম্প্রদায়িকতার সুর আর বিতর্কের মাইলেজকে হাতিয়ার করেই ভোটের প্রচারে বাজিমাতের ছক ছিল তা নিয়েই এখন চলছে চর্চা। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।


