Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে সম্ভাব্য পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠনকে প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে বিজেপি (BJP)। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আসন্ন পুরনির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা (Kolkata) ও হাওড়া (Howrah) পুরসভাকে ঘিরে দলের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতিন নবীনের বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্ব
সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)-এর নেতৃত্বে হওয়া বৈঠকে রাজ্যের গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এও জানা গেছে আগামী দিনে সংগঠন কীভাবে এগোবে, সেই বিষয়ে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা বৈঠকে তুলে ধরেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরের পর্যবেক্ষণও আলোচনায় আসে।
শুভেন্দু ও শমীকের বক্তব্য
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) নিজেদের মতামত জানান। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর পর্যবেক্ষণও আলোচনায় এসেছে বলে খবর। বৈঠকে আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার (Arun Kumar)-এর উপস্থিতির কথাও জানা গিয়েছে।
সাত পুরসভাকে ঘিরে প্রস্তুতি
আসন্ন নির্বাচনে কলকাতা ও হাওড়ার সঙ্গে বালি (Bally), কালিম্পং (Kalimpong), মালদা (Malda), পুরুলিয়া (Purulia) এবং হলদিয়া (Haldia) পুরসভাও থাকছে বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
নভেম্বরের শেষেই কি ভোট?
ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়েও ইতিমধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে।২৭ অথবা ২৮ নভেম্বর ভোট হতে পারে। ২ ডিসেম্বর গণনার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এগুলির কোনওটিই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক-সহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে।
কমিশনের হাতে এল বিপুল সংখ্যক ইভিএম
নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ইভিএম (EVM) ব্যবস্থাপনাতেও অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) থেকে ২১ হাজার ১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯ হাজার ৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট রাজ্যে পৌঁছেছে বলে খবর। এগুলি পরীক্ষা ও সংরক্ষণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী জেলাগুলিতে পাঠানো হবে।
আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন জেলায় ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে। ফলে ভোটের চূড়ান্ত দিন ঘোষণা না হলেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক দলগুলির সাংগঠনিক তৎপরতা দুই ক্ষেত্রেই পুরভোট এখন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


