Aaj lndia Desk,কলকাতা: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ শেড (Taratala Shed Collapse) ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। শনিবার সকালে উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে পড়লেও এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না প্রশাসন। সেই কারণে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
কী কী জানা গেল?
- মৃত: ১৭ জন
- উদ্ধার: এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
- উদ্ধার অভিযান: শনিবার চতুর্থ দিনে পৌঁছেছে।
- আহতদের চিকিৎসা: উদ্ধার হওয়া সকলকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- তল্লাশি: সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঠিকাদারের দেহ উদ্ধার,
- গ্রেফতার ৫
দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নির্মাণকাজের ঠিকাদার আসগার হুসেইন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় গোডাউনের লিজধারী শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে কিশোর ও তরুণ শ্রমিক
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ বছরের সাহিল সর্দার। তিনি ওই গোডাউনের শ্রমিক ছিলেন না। মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে কাকদ্বীপ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। সেই সফরই তাঁর জীবনের শেষ সফর হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, কাটোয়ার গাজীপুরের বাসিন্দা ২০ বছরের রোহিত চৌধুরীর দেহও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে। মাত্র দেড় মাস আগে তিনি ওই নির্মাণ সংস্থায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
উঠছে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না এবং এই ঘটনার জন্য কার গাফিলতি দায়ী তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু গ্রেফতার নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও দাবি উঠছে।উদ্ধারকারী বাহিনীর তল্লাশি এখনও চলছে। প্রশাসনের আশা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে থাকলে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।


