Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারি অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও উন্নয়ন নিয়ে বার্তা দেওয়াই তাঁর অন্যতম প্রধান ভূমিকা। কিন্তু রবিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল গীতা পাঠ, হনুমান চালিসা, কীর্তন এবং ‘ধর্মরক্ষা’র (Religious Politics) আহ্বান। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচরণ পালনের আহ্বান কতটা উপযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা।
ধর্মীয় মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান আর সহ্য করা হবে না। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার ‘টিকা, শিখা, ধুতি ও তুলসীর সুরক্ষাকারী সরকার’।এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে গীতা পাঠ ও বিতরণ, হনুমান চালিসা পাঠ, শঙ্খ-মৃদঙ্গ বাজানো এবং হরেকৃষ্ণ নামকীর্তনের আহ্বান জানান তিনি। এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ব্রিগেডে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত উপস্থিত থাকবেন।(Religious Politics)
এর পাশাপাশি শুভেন্দুর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল আগের বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও তিনি আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সালেই ভারত স্বাধীন হয়েছে এবং এই ধরনের স্লোগানের বিরুদ্ধে ‘জাতীয়তাবাদী’ জনতা জবাব দেবে।এর আগে যাদবপুরে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ থেকেও শুভেন্দু ‘ফ্রি কাশ্মীর’ ও ‘লাল সেলাম’-এর মতো স্লোগান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই উঠছে প্রশ্ন
একজন রাজনৈতিক নেতা বা কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বক্তা হিসেবে ধর্মীয় আচার নিয়ে বক্তব্য রাখা এক বিষয়। কিন্তু একই ব্যক্তি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তখন তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি পদটির নিরপেক্ষতার প্রশ্নও জড়িয়ে যায়। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পাঠ, ধর্মীয় স্তোত্র বা আচার পালনের জন্য সাধারণ মানুষকে সরাসরি আহ্বান জানানোয় বিরোধীদের প্রশ্ন, এটি কি রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, নাকি প্রশাসনের বার্তা?
মুখ্যমন্ত্রীর পদটি রাজ্যের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান যখন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে আসে, তখন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এখন দেখার পদ ও বক্তব্যের সীমারেখা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কতটা বজায় রাখতে পারেন।


