28 C
Kolkata
Wednesday, May 6, 2026
spot_img

বঙ্গ বিজেপিতে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ! শুভেন্দুর হাতেই যাচ্ছে নেতৃত্ব ?

Aaj India Desk, কলকাতা : ৪ মে বঙ্গ ভাজপার সরকারের হাতে যেতেই শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা। ২০১১ সালে দলের সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ। কিন্ত ২০২৬ সালে ‘পরিবর্তনের’ প্রচারে নির্দিষ্ট কোনো মুখ সামনে আনেনি বিজেপি। সমষ্টিগত কৌশলে বিশ্বাস করে বঙ্গের রাজনীতির মানচিত্রে পরিবর্তন এনেছে তারা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ (CM Face) হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম যে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।

১৯৯০-এর দশক থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় শুভেন্দু তৃণমূলে থাকাকালীন বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যজুড়ে পরিচিতি কায়েম করে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হয়েছিলেন এই শুভেন্দু অধিকারী। ২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে বোঝাপড়া না হওয়ায় তৈরি হয় দূরত্ব। তৃণমূলকে বিদায় দিয়ে তিনি যোগদান করেন বিজেপিতে। তবে এখানেই শেষ নয়। বিজেপিতে যোগদানের পর একটু একটু করে রাজ্য জুড়ে নিজের ভিত মজবুত করেছেন শুভেন্দু। পুর্ব মেদিনীপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবারের গভীর প্রভাব রয়েছে। সেই শক্ত ভিতের কারণেই ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর ২০২৬ সালে আবার মমতারই শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে জয় ধরে দু’বার একজন মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে বিরল। মোদী-শাহের প্রচেষ্টা ছাড়াও শুভেন্দুর নিজের কূটনৈতিক চাল ও পুরোনো দলের প্রতি ক্ষোভ অনেকাংশে বাংলার সরকার বদলের মূল কারণ। ভিতর থেকে ধীরে ধীরে তৃনমূল দলটিকে দুর্বল করে দিয়েছিলেন তিনি। তৃনমূল ছাড়ার পর তৃনমূলের একাধিক নেতা কর্মীকে প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ, সেই সময় বহু নেতা কর্মী দল ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীকে অনুসরণ করেন। এতে তখনই তৃণমূলের মধ্য ও নিচু স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। দলীয় ফাটল তৈরি করে দেন শুভেন্দু, যা ধীরে ধীরে খাদে পরিণত হয়ে গিলে নিয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বঙ্গ মুখ (CM Face) হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর না থাকাটাই অস্বাভাবিক। অভিজ্ঞতা, নির্বাচনী সাফল্য ও সাংগঠনিক ক্ষমতা তাঁকে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে। যদিও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিতে নেতা নির্বাচন করা হয়। শুক্রবার সেই বৈঠক ডেকেছে বিজেপি। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল প্রমুখ সেই বৈঠকে থাকবেন।

৯ তারিখ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সামনে আসবে। একইসঙ্গে দুর্নীতির পতন ঘটাতে বিজেপিকে ডেকে আনা জনমতের প্রত্যাশা পূরণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ নতুন নেতৃত্বের কাছে। আগামী দিনে সেই চ্যালেঞ্জগুলি কিভাবে মোকাবিলা করেন ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন