কলকাতা: কখনও শুটিং থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ, কখনও ব্যান কালচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া! টলিউডের (Tollywood) অন্দরে নানা বাধা-বিতর্কের সাক্ষী ছিলেন তিনি। আর এবার সেই সোমনাথ কুণ্ডুর কাঁধেই মেকআপ গিল্ডের দায়িত্ব! ফেডারেশন নির্বাচনের প্রথম পর্বেই বড় জয় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই মেকআপ আর্টিস্টের। টলিউডের অন্দরে কি এবার সত্যিই বদলের মেকআপ?
ক্যামেরার সামনে তারকারা, আর ক্যামেরার পিছনে তাঁদের চরিত্র হয়ে ওঠার কারিগররা। সেই কারিগরদের সংগঠনেই এবার নতুন দায়িত্ব পেলেন সোমনাথ কুণ্ডু। বাংলা ছবির মেকআপ জগতে অত্যন্ত পরিচিত নাম তিনি। ‘অপরাজিত’, ‘গুমনামি’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘ধূমকেতু’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর কাজ দর্শকের নজর কেড়েছে। ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে জিতের নটি লুক তৈরির দায়িত্বেও ছিলেন সোমনাথ। সেই শিল্পীই এবার মেকআপ গিল্ডের সভাপতি নির্বাচিত।
শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) ফেডারেশন, গিল্ড ও ইমপার নির্বাচনী প্রক্রিয়া। দু’দিন ধরে চলবে ভোটপর্ব। প্রথম দিন বিভিন্ন গিল্ডের নির্বাচনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর নজরদারিতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ছিল পুলিশি নিরাপত্তাও। আর প্রথম দিনের ফলাফলেই মেকআপ গিল্ডের সভাপতি পদে উঠে এল সোমনাথ কুণ্ডুর নাম।
তবে এই জয় শুধু একটি সাংগঠনিক পদ পাওয়ার ঘটনা নয়, সোমনাথের কাছে এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও। কয়েক মাস আগেই দ্বিভাষিক ছবি ‘একা’-র শুটিং থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, পাপিয়া অধিকারীর নেতৃত্বাধীন কনফেডারেশনের তরফে তাঁকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ এসেছিল। সেই সময় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন এই মেকআপ আর্টিস্ট। যে শিল্পী একসময় কাজের জায়গায় বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, আজ তিনিই সেই গিল্ডের দায়িত্বে। ফলে তাঁর নির্বাচিত হওয়া ঘিরে টলিউডের (Tollywood) অন্দরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ।
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক অতীতেও কম বিতর্ক নেই। শুটিং বন্ধ, শিল্পীদের ব্যান করা, কাজের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ এবং সংগঠনের ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন, এসব অভিযোগে বহুবার উত্তাল হয়েছে টলিউড (Tollywood)। বিশেষ করে বিশ্বাস ব্রাদার্সদের প্রভাব ও ফেডারেশনের কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। নতুন রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফেডারেশন, বিভিন্ন গিল্ড ও ইমপাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এই নির্বাচন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে সোমনাথের বার্তা স্পষ্ট, গিল্ড পরিচালনায় স্বচ্ছতাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। অতীতে যে বাধা, ব্যান কালচার ও থ্রেট কালচারের অভিযোগ উঠেছিল, ভবিষ্যতে অন্য কোনও শিল্পীকে যেন সেই পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চান তিনি।
তাঁর কথায়, যে ব্যান কালচার, যে থ্রেট কালচার একসময় ছিল, সেসব দূরে সরিয়ে নতুন করে ভোটের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতি। পাশাপাশি জিৎ, দেব ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিভাবকসুলভ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এখন দেখার, নির্বাচনের জয়ের পর বাস্তবের ময়দানেও কতটা বদল আনতে পারেন সোমনাথ। কারণ টলিউডের (Tollywood) মেকআপ শুধু অভিনেতাদের চেহারা বদলায়, কিন্তু সংগঠনের দায়িত্বে এসে সোমনাথের সামনে চ্যালেঞ্জটা আরও বড়, শিল্পীদের কাজের পরিবেশে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও সম্মানের জায়গা তৈরি করা।
যে মানুষ একসময় কাজ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, আজ তাঁর হাতেই গিল্ডের দায়িত্ব। টলিউডের এই নতুন অধ্যায় কি সত্যিই পুরনো বিতর্কের উপর টেনে দেবে যবনিকা? উত্তর দেবে আগামী দিনের কাজ।


