কলকাতা: টলিউডে (Tollywood) এতদিন ক্যামেরার সামনে যতটা অ্যাকশন, ক্যামেরার পিছনে তার চেয়ে কম কিছু চলেনি! কখনও পরিচালক-টেকনিশিয়ানের সংঘাত, কখনও কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি, কখনও আবার পারিশ্রমিক বকেয়া নিয়ে ক্ষোভ। অভিযোগ, দিনের পর দিন ক্ষমতার দাপট আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বাংলা সিনেমার দুনিয়া। সেই টলিউডেই এবার বদলের লড়াই! আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে মিঠুন চক্রবর্তী।
শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শুরু হয়েছে ২৬টি গিল্ডের নির্বাচন। চলবে দু’দিন ধরে। কিন্তু ভোটের থেকেও বেশি নজর কেড়েছে মিঠুনের উপস্থিতি। স্টুডিওর ভিতরে নয়, বাইরে চেয়ারে বসেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন তিনি। কারণ, তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভোটার ছাড়া অন্য কারও ভিতরে থাকার কথা নয়। অর্থাৎ, নিজের প্রভাব খাটিয়ে নয়, নিয়ম মেনেই নির্বাচন হোক, সেই বার্তাই কি দিতে চাইছেন অভিনেতা?
একসময় টলিউডের (Tollywood) অচলাবস্থা নিয়ে সরব হয়ে মিঠুন বলেছিলেন, ‘নর্দমা পরিষ্কার’ করতে হবে। এবার সেই নর্দমা পরিষ্কারের দায়িত্ব কি ভোটারদের হাতেই? মিঠুনের অভিযোগ, এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে চলেছে ‘একজনের শাসন’। তাঁর আশা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতির বদল হবে। তবে সেই বদল কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার জায়গা নেই।
এদিকে ভোটের পদ্ধতিতেও এসেছে পরিবর্তন। আগে এসএমএসের মাধ্যমে ভোট হলেও এবার শ্রম কমিশনের নিয়ম মেনে নির্বাচন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। অর্থাৎ, মোবাইলের মেসেজ নয়, এবার ব্যালটেই নির্ধারিত হবে গিল্ডগুলির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
সরকারের তরফে সিনেমা নির্মাতাদের ৩০ শতাংশ ভর্তুকির ঘোষণাও রয়েছে। কিন্তু শুধু ভর্তুকিতে কি ঘুরবে ইন্ডাস্ট্রির ভাগ্যের চাকা? নাকি আগে মেটাতে হবে বকেয়া, কাটাতে হবে কাজের অনিশ্চয়তা, ফিরিয়ে আনতে হবে আস্থা?
২৬ গিল্ডের এই ভোট তাই নিছক নির্বাচন নয়। টলিউডের (Tollywood) ক্ষমতার অলিন্দে কারা থাকবেন, আর কারা সরে যাবেন, তারই পরীক্ষা। এবার দেখার, ভোটের পর সত্যিই বদলায় কি না টালিপাড়ার চিত্রনাট্য!


