Aaj India Desk, কলকাতা : রেলস্টেশন ও সরকারি জমি থেকে বেআইনি দখলদারি সরাতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক অভিযান। স্টেশনের বাইরের অংশের পর এবার স্টেশনের ভেতর থেকেও বেআইনিভাবে বসা দোকান ও ব্যবসা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। এভাবেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং স্টেশনে পুলিশি অভিযানের একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে সামনে এলো অবৈধ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ। (Illegal Encroachment)
ক্যানিং স্টেশনে এক দোকানদার অভিযোগ করেন যে বহু বছর ধরে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা চালাতে তিনি বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে দিতেন। তবে সেই টাকার কোনও সরকারি রসিদ তিনি পাননি বলেও দাবি করেন। পুলিশ আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, তিনি ঠিক কার কাছে অনলাইনে বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন, সেই সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই তাঁর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, স্টেশন ও সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছোট ব্যবসাগুলির পেছনে কোনও অসাধু চক্র সক্রিয় ছিল কি না। (Illegal Encroachment)
একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে বিধাননগরের সল্টলেক AE মার্কেট এলাকাতেও। শনিবার সকালে পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক ডা. শরদ্বত মুখোপাধ্যায় রাস্তার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগে এক বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন।ওই ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি ‘সুফল বাংলা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে কয়েক বছর ধরে ওই জায়গায় ব্যবসা করছেন। যদিও তাঁর কাছে বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না বলেও জানা গিয়েছে। তিনি বাসন্তী এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন। (Illegal Encroachment)
বিধাননগরের একাধিক এলাকায় ছোট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে ফুটপাত বা সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। যদিও এই অভিযোগের সরকারি কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ক্যানিং স্টেশন এলাকাতেও সম্প্রতি এক গাড়ি মেকানিক একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযানে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বহু পুরনো অনিয়ম ও অননুমোদিত ব্যবসার বিষয় সামনে আসছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভও বাড়ছে, কারণ তাঁদের অনেকেই নিজেদের ব্যবসাকে বৈধ বলেই বিশ্বাস করতেন। এবার প্রশাসন এদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং অবৈধ টাকার চক্রের তদন্ত করবেন কিনা সেটাই দেখার।


