Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কয়লা পাচার মামলায় দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আই-প্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চন্দেলকে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির ঠিক আগের দিন ইডির এই নতুন পদক্ষেপকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
কয়লা পাচার ও ‘হাওয়ালা’ লেনদেনের অভিযোগ
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ২ তারিখে চন্দেলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর সোমবার তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই আই-প্যাকের (I-PAC) আরও দুই শীর্ষ কর্তা প্রতীক জৈন ও ঋষি রাজ সিংহকেও তলব করেছে ইডি। তবে তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানিয়ে ভোট গণনার পর হাজিরার অনুমতি চেয়েছেন।
ইডির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার চক্র থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা ‘হাওয়ালা’ মারফত আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মানি লন্ডারিং আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই তদন্তের সূত্রপাত ২০২০ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে, যেখানে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনি এলাকা থেকে অবৈধ কয়লা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।
পিএমএলএ আইনে গ্রেপ্তার
ইডি জানিয়েছে, চন্দেলকে পিএমএলএ আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। এদিকে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে, যার আগে এই পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে গোটা ইস্যুতে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতে আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি অভিযোগ করে, তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে দলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য দখলের চেষ্টা করছে ইডি।
রাজ্যে ভোটের আগে এই গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, আই-প্যাক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ডিরেক্টরের এই গ্রেপ্তারি শুধু একটি তদন্তের অগ্রগতি নয়, বরং ভোটের মুখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে ইডি তাদের আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ তুলছে। সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এই ইস্যুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।


