Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং পারস্পরিক অভিযোগের মাত্রা। বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই আবহেই, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মাত্র দশ দিন আগে আই-প্যাক ডিরেক্টর বিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী পক্ষপাত’-এর অভিযোগ
এক্স (X) হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক (Abhishek Banerjee) প্রশ্ন তোলেন, ভোটের আগে এমন গ্রেফতারি কী বার্তা দিচ্ছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে বেছে বেছে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাঁর কথায়, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা শাসক শিবিরে যোগ দিলে সুরক্ষা পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের নিশানা করা হচ্ছে।
অভিষেকের পোস্ট : https://x.com/i/status/2043751310860968201
তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন, ইডি, এনআইএ ও সিবিআই-এর মতো সাংবিধানিক ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ। কিন্তু যদি এই সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই সংস্থাগুলির অতিরিক্ত সক্রিয়তা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এতে বিরোধী শিবিরের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়।
বিজেপিকে নিশানা করে অভিযোগ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে উদ্দেশ্য করে অভিষেক লেখেন, “ভয় দেখিয়ে স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হলে গণতন্ত্র শুধু নামেই থাকে।” তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে ৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।পোস্টের শেষে তাঁর মন্তব্য, “বাংলা চাপের কাছে মাথা নোয়ায় না, বরং লড়াই করে জবাব দেয়।”
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা এবং অবাধ ভোটের পরিবেশ সবই নতুন করে প্রশ্নের মুখে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং ভোট প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কী পদক্ষেপ নেয়।


