Aaj India Desk, হুগলি : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের পর রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ২৯ শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই বঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। শনিবার উত্তরপাড়ার জোড়াপুকুর মাঠে জনসভা থেকে প্রচার করাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, কিছু এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট ধীর করার চেষ্টা হয়েছে এবং এর পিছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ইস্যুতে সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘আমোদী-প্রমোদীবাবু’ বলতে কাকে বোঝালেন মমতা?
সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “আমি আমোদী-প্রমোদীবাবুকে বলছি, আপনারা কি বছরে ২ কোটি চাকরি দিয়েছেন?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই আক্রমণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, অথচ রাজ্যে তা কমেছে। কেন্দ্রের চাকরি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “দেশে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে, আর বাংলায় ৪০ শতাংশ কমেছে।”
ভারতের বেকারত্ব সমস্যা
উল্লেখ্য, ভারতে বেকারত্ব সমস্যা এখন একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে কর্মসংস্থানের ঘাটতির পরিমাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের একটি বড় অংশ বেকার বা আংশিকভাবে কর্মরত। যদিও এর মূল কারণ দক্ষতার অভাব। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ শ্রমশক্তি এখনও এমন অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কাজ করে, যেখানে চাকরির স্থায়িত্ব বা সামাজিক সুরক্ষা নেই। মহিলাদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণও তুলনামূলকভাবে কম, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থানের চিত্রকে আরও দুর্বল করে। ফলে ভারতে কর্মসংস্থান নিয়ে প্রতিশ্রুতি সর্বদাই নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।
কেনো উত্তরপাড়ায় কর্মসংস্থানে জোর ?
দীর্ঘদিন ধরেই চাকরি ও বেকারত্ব নিয়ে শাসক দলকে নানান কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কেন্দ্রের তরফেও নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ গত মাস থেকে মমতার বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্ফোরক হন। ফলে ভোটের ঠিক আগে উত্তরপাড়ার মতো কেন্দ্রতে যেখানে সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি ক্রমাগত যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রচার করে চলেছেন, সেখানে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তাঁর এই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে তা বোঝা যাবে ৪ই মে, ভোটের ফল প্রকাশের দিনই।


