Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: বিধায়কদের সই জালিয়াতি (Signature Forgery) মামলায় এবার সিআইডি (CID)-র নোটিস পেলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। শুক্রবার সকালে সিআইডির আধিকারিকরা তাঁর কামারহাটির বাড়িতে গিয়ে নোটিস তুলে দেন। মদন মিত্র নিজেও নোটিস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আজ সকালে সিআইডির পক্ষ থেকে আমাকে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি নোটিস পেয়েছি ঠিকই, তবে এখনও আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে যে তদন্তের স্বার্থে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে।”
বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সূত্রে খবর, বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিকবার অসন্তোষও প্রকাশ করেন। অভিষেককে জেরা করার পরদিনই মদন মিত্রের কাছে নোটিস পৌঁছনোয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার জন্যই মদন মিত্রকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের কঠিন সময়ে এখনও যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মদন মিত্র। তিনি বহুবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গেই আছেন। তাই তাঁর কাছে সিআইডির নোটিস পৌঁছনো নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে দলের একাংশ ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও দলের ভিতরে মতভেদের খবর সামনে এসেছে। এরই মধ্যে সই জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করেছে সিআইডি। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। প্রথম তিনবার তিনি হাজিরা না দিলেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার ভবানীভবনে গিয়ে তদন্তে অংশ নেন।


