Aaj lndia Desk, হুগলি:ভোটের মরশুমে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে বলে ফের অভিযোগ তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে ব্যাপকভাবে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা প্রচারের সময় শব্দদূষণ, বিশেষ করে উচ্চ শব্দে ডিজে ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। পাশাপাশি শব্দবাজির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক জায়গায় গাছের গায়ে পেরেক মেরে দলীয় পতাকা ও ব্যানার লাগানো হচ্ছে, যার ফলে গাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।পরিবেশ কর্মীদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আনা হলেও কার্যত কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।পরিবেশবিদদের মতে, রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সবাই যদি সচেতন না হয়, তাহলে শহর ও গ্রামীণ উভয় এলাকাতেই পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়বে।
ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে গোঘাটজুড়ে গাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রচারের স্বার্থে গাছের গায়ে পেরেক মেরে পোস্টার ও দলীয় পতাকা লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে।অভিযোগ, এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। বরং বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এই বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি, কেউ কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে স্থানীয় মহলের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রচার চললেও পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। গাছের এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
গোঘাটের কামারপুকুর–হাজিপুর মেন রোডের গড়মান্দারণের পর থেকে রাঙামাটি হয়ে হাজিপুর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য গাছে পেরেক গেঁথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা লাগানোর চিত্র দেখা গিয়েছে। একই ধরনের দৃশ্য গোঘাট থানার একাধিক গ্রামীণ সড়কেও ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমপাড়া–শান্তিপুর রোডের পশ্চিমপাড়া অংশে এবং কামারপুকুর–বদনগঞ্জ রোডের সাতবেড়িয়া, সুবীরচক, তারাহাট সহ বিভিন্ন এলাকাতেও গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে পতাকা টাঙানো হয়েছে। তারাহাট থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ রাস্তাজুড়েও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে গোটা গোঘাট অঞ্চলের বহু রাস্তার শতাধিক গাছ এখন এইভাবে দলীয় পতাকার ভারে চিহ্নিত হয়ে আছে।
এ বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে দাবি তুলেছেন, দ্রুত গাছ থেকে দলীয় পতাকা খুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রার্থীরা ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব কি এ ধরনের পরিবেশ-ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নন? কেনই বা এভাবে গাছের ক্ষতি করে প্রচার চালানো হচ্ছে তা নিয়েও উঠছে সমালোচনা।
এই প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ ও শিক্ষক ভবানীপ্রসাদ দাস বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর বক্তব্য, অবিলম্বে গাছ থেকে পতাকা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। না হলে সবুজের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। গাছে পেরেক পোঁতার ফলে কাণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি হয়, যা গাছের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি আরও জানান, প্রকৃতি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না হলে পরিবেশকর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
অন্যদিকে গোঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিজয় রায় বলেন, গাছের গায়ে পেরেক মেরে পতাকা লাগানো মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগর জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না, দলীয় কর্মীরা করে থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ যাতে না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হবে। সিপিএম নেতা পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এমন কাজ কাম্য নয় এবং তাঁদের দলের কেউ যুক্ত থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।


