Aaj India Desk, কলকাতা: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে বাংলা সিনেমার হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুম্বাই এবং দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে বাংলা ছবির পরিকাঠামো ও কাজের পরিবেশে আরও উন্নতি প্রয়োজন।
পুরনো গৌরব ফেরানোর পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু স্মরণ করিয়ে দেন, একটা সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলা ছবিকে আবারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র কেন্দ্রগুলির মধ্যে নিয়ে আসতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা যে ক্ষেত্রেই সহায়তার প্রয়োজন হোক, সরকার পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তমকুমারকে ঘিরে এক মঞ্চে তারকারা
শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দেখা যায়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী, সন্দীপ রায়, জিৎ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষ-সহ বহু পরিচিত মুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রঞ্জিত মল্লিকের পাশাপাশি ‘শিল্পী সংসদ’-এর প্রতিনিধিত্ব করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও যোগ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে বড় পরিসরে পালনের উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আগ্রহ থেকেই। তিনি সচিবালয়ে গিয়ে মহানায়কের শতবর্ষ উপলক্ষে সরকারের সক্রিয় সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে মিঠুন, সন্দীপ রায়, জিৎ-সহ আরও অনেকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। মহানায়কের পরিবারের তরফে মহুয়া দেবীর সম্মতি ও আশীর্বাদ পাওয়ার কথাও জানানো হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা এবং প্রধান সচিব সৌমিত্র মোহনের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
নিউ টাউনে ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প
চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম ইনস্টিটিউট’ তৈরির সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। শীঘ্রই এর ভূমিপুজো হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি কলকাতায় রবীন্দ্রসদন ও নন্দনের মতো পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর থেকেও আরও আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি নতুন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
উত্তমকুমার ও সত্যজিৎ রায়ের অবদান স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট ‘মন কি বাত’-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই দুই কিংবদন্তির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেও উত্তমকুমারকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জিতের হাতে ফিতে কাটার কাঁচি
উদ্বোধনী পর্বে একটি অভিনব সৌজন্যের ছবিও দেখা যায়। ফিতে কাটার সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে কাঁচি ব্যবহার না করে তা অভিনেতা জিতের হাতে তুলে দেন। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভেদের বাইরে গিয়ে উত্তমকুমারকে কেন্দ্র করে সবাইকে একসঙ্গে থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন বলে জানান তিনি।
চার দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি হবে ৬ সেপ্টেম্বর। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে সাধারণ দর্শকদের জন্য বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের জনপ্রিয় ও স্মরণীয় ছবিগুলি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।


