Aaj India Desk,কলকাতা:রাজ্য জুড়ে এখন গেরুয়া জোয়ার ,গতকাল বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে প্রায় ১০০ আসনের ব্যবধানে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রেস, হাতে গোনা কয়েকটি আসনে জয় এলেও মোট অংকে বেশ অনেক টাই পিছিয়ে মমতার দল।
পরাজয়ের পর আসন ছাড়তে হয়, এমনটাই জানতো রাজ্যবাসী, তবে এই ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ,অকপটে তিনি নিজের পরাজয় অস্বীকার করলেন আজকের সংবাদিক সম্মেলনে ।
“রাজভবন যাবেন ?”
এই প্রশ্নতেই ক্ষিপ্ত হন মাননীয়া “কেন যাব রাজভবন , যদি শপথ নিতাম তবে যেতাম , আমিতো হারিনি , তাই পদত্যাগ ও করবো না ” কার্যত এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা। তবে পাশাপাশি তিনি এও বলেন
“আমাদের ১০০টি আসন লুঠ করা হয়েছে।” বিজেপির সহ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাতেও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পর ইভিএম নিয়ে কারচুপি, কর্মীদের গ্রেফতার এবং আধিকারিক বদলির মতো ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু ।
মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যের অবস্থা কি হবে ?
১. মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর যদি হেরে যান, এবং যদি তিনি স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দেন, তবে সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল তাঁকে পদ থেকে বরখাস্ত (Dismiss) করতে পারেন।
২. মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলে সেক্ষেত্রে যদি রাজ্যে কোনো স্থায়ী সরকার গঠন সম্ভব না হয় তখন সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থা (Failure of Constitutional Machinery) ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও ক্ষমতা না ছাড়াকে অনেকেই শুধুমাত্র রাজনৈতিক জেদ নয়, বরং সাংবিধানিক সংকট হিসেবেও দেখছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, জনতার রায় স্পষ্ট হওয়ার পরেও যদি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি সরাসরি রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের দিকে গড়াতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তই হয়ে উঠতে পারে শেষ কথা। আর সেই কারণেই গোটা ঘটনাকে ঘিরে এখন জল্পনা বাড়ছে ,এখন দেখার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় নাকি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পথে অগ্রসর হয়।


