29 C
Kolkata
Friday, October 9, 2026
spot_img

তড়িঘড়ি সৎকার! নানার প্রয়াণে হঠাৎ পুলিশি হস্তক্ষেপ! দায়ের ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ মামলা! কেন?

পানাজি: একটা খবরেই যেন থমকে গিয়েছে অসংখ্য অনুরাগীর মন। পর্দায় তাঁর (Nana Patekar) তেজস্বী উপস্থিতি, সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি আর অনবদ্য অভিনয়, সবই এখন স্মৃতি। অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীরা। কিন্তু এই শোকের আবহেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর দু’টি বিষয়। অভিনেতার মৃত্যুর পর কেন অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করল পুলিশ? আর কেনই বা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সম্পন্ন হল তাঁর শেষকৃত্য? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন নানার পুত্র মলহার পাটেকর।

হৃদরোগে মৃত্যু, তবু কেন পুলিশের মামলা?

গত বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর (Nana Patekar)। কিন্তু অভিনেতার মৃত্যুর পর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৯৪ ধারায় একটি অপমৃত্যু বা আনন্যাচারাল ডেথ (UD) মামলা রুজু করেছে পনাজি পুলিশ। খবরটি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মনে।

তবে কি নানার মৃত্যু ঘিরে কোনও রহস্য রয়েছে?

পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি মূলত একটি আইনি প্রক্রিয়া। গোয়ার মনিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডঃ শেখর সালকার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে ২০ থেকে ৪টে ৩০ মিনিটের মধ্যে নানাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জানা গিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় অভিনেতার (Nana Patekar)। সেই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের রিপোর্টের ভিত্তিতে মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) হিসেবে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়। এরপরই নিয়ম মেনে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে পুলিশ।

অর্থাৎ, মামলা রুজু হওয়া মানেই মৃত্যুর পিছনে কোনও অপরাধ বা রহস্য রয়েছে, এমনটা নয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি নথিভুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই এই পদক্ষেপ।

কেন তড়িঘড়ি শেষকৃত্য? অবশেষে মুখ খুললেন মলহার

নানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন বলিউডের বহু তারকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অনুরাগীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই পুণের দোঞ্জে গ্রামের খামারবাড়িতে সম্পন্ন হয় অভিনেতার (Nana Patekar) শেষকৃত্য। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় তাঁকে।

কিন্তু এত রাতেই কেন শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল পরিবার? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নানার পুত্র মলহার পাটেকর। মলহার জানান, গোয়া থেকে বাবার মরদেহ পুণের খামারবাড়িতে নিয়ে আসতে অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল। ঘটনাটি ভোরে ঘটলেও মরদেহ নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়। তাই আর দেরি না করে বৃহস্পতিবার রাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এই কারণেই বলিউড এবং রাজনৈতিক মহলের বহু পরিচিত মুখ শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

‘নানা সাহেবের মতো মানুষ কখনও চলে যান না’

বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা যে কতটা গভীর, মলহারের কথাতেই যেন তার প্রতিফলন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শূন্যতা কোনও কথাতেই পূরণ হওয়ার নয়। তবু বাবার কাজ, তাঁর আদর্শ এবং জীবনদর্শনের মধ্যেই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার কথা বললেন পুত্র।

মলহারের কথায়, নানা সাহেবের মতো মানুষ কখনও তাঁদের ছেড়ে চলে যান না। তাঁর কাজ ও কীর্তি তাঁকে চিরকাল অমর করে রাখবে। তিনি সবসময় চাইতেন, সবাই যেন একজোট হয়ে সঠিক পথে এগিয়ে চলেন।

বাবার রেখে যাওয়া সেই স্বপ্ন এবং দর্শনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। কথাগুলির মধ্যে যেন লুকিয়ে রয়েছে এক সন্তানের গভীর উপলব্ধি, মানুষটা চলে গেলেও তাঁর শিক্ষা, আদর্শ আর স্মৃতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

পর্দার নানা থাকবেন, স্মৃতির নানা-ও

নানা পাটেকর (Nana Patekar) ছিলেন এমন এক অভিনেতা, যাঁর অভিনয় দর্শকের মনে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে। তাঁর কণ্ঠস্বর, চোখের ভাষা, সংলাপের তীব্রতা এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব তাঁকে বলিউডে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। আজ সেই মানুষটাই আর নেই। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে, প্রিয়জনেরা জানিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা। তবু তাঁর চলে যাওয়ার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

নানার (Nana Patekar) মৃত্যুর পর পুলিশের আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও, পরিবারের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সত্যি, এক প্রিয় মানুষকে চিরতরে হারানোর যন্ত্রণা।

পর্দার চরিত্ররা হয়তো একদিন শেষ দৃশ্যে পৌঁছয়। কিন্তু কিছু অভিনেতা থেকে যান দর্শকের হৃদয়ে, তাঁদের অভিনয়ে, তাঁদের বলা কথায়। নানা পাটেকরও তেমনই এক শিল্পী, যাঁর উপস্থিতি আর নতুন করে দেখা যাবে না, অথচ যাঁর স্মৃতি মুছে ফেলা সহজ হবে না।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন