মুম্বই: বৃহস্পতিবার সকালটা যেন আচমকাই থমকে গেল বলিউডে। গোয়ার বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নানা পাটেকরকে (Nana Patekar)। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের প্রায় ৪৫ মিনিটের আপ্রাণ চেষ্টাও ফিরিয়ে আনতে পারেনি অভিনেতাকে। কয়েক দিন আগেও যিনি হাসি-আড্ডা, নাচ-গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন আসর, তাঁর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া যেন এখনও বিশ্বাসই করতে পারছেন না সহকর্মী থেকে অনুরাগীরা।
নানা পাটেকর (Nana Patekar) মানেই শুধু একজন অভিনেতা নন, একটি আলাদা অভিনয়-দর্শন, একরাশ তীক্ষ্ণতা, অকপট সত্যি কথা আর অদ্ভুত এক মায়া। তাঁর অনুপস্থিতি তাই যেন হঠাৎ করেই আরও ফাঁকা করে দিল গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে।
নানার (Nana Patekar) প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরনো স্মৃতির দরজা খুলে গেল শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan)। ১৯৯২ সালে ‘রাজু বান গ্যায়া জেন্টলম্যান’-এ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দু’জনে। তখন ইন্ডাস্ট্রিতে শাহরুখের পথচলা সবে শুরু। আর সেই সময়ই নানা তাঁকে দিয়েছিলেন এমন একটি পরামর্শ, যা তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও অক্ষরে অক্ষরে মনে রেখেছেন কিং খান।
শাহরুখের (Shah Rukh Khan) কথায়, প্রথমবার নানার সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তিনি এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন যে বারবার চুলে হাত দিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর হাত সরিয়ে নানা বলেছিলেন, ‘হিরোর মতো চুল বানাস না। তুই অভিনেতা! হিরো হওয়ার নেশায় অভিনেতাকে হারিয়ে ফেলিস না।’
একজন নবাগত অভিনেতার কাছে সিনিয়রের সেই কয়েকটি কথা যে কতটা মূল্যবান হয়ে উঠেছিল, শাহরুখের (Shah Rukh Khan) স্মৃতিচারণাতেই তার প্রমাণ। নানার চরিত্রের আরেকটি দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, নানা কখনও কাউকে খুশি করার জন্য প্রশংসা করতেন না। মানুষ যা শুনতে চায়, তা নয়, বরং যা শোনা প্রয়োজন, সেটাই বলতেন।
সোজাসাপ্টা, রুক্ষ অথচ অসম্ভব সৎ, এই মানুষটির মধ্যেই ছিল এক শিশুর মতো সুন্দর হাসি। ভালোবাসাও প্রকাশ করতেন নিজের মতো করে। প্রথমে হয়তো বকতেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বোঝা যেত, সেই বকুনির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে গভীর স্নেহ।
শাহরুখের কাছে তাই নানা ছিলেন শুধুই সহ অভিনেতা নন। ছিলেন গুরু, শিক্ষক, সমালোচক এবং বন্ধু। নানাকে স্মরণ করে শাহরুখের আক্ষেপ, আরও কিছু কথা বলা হয়নি। আরও একটি তর্ক, আরও এক কাপ চা, আরও একবার ক্যারাম খেলা, সবই যেন অসমাপ্ত রয়ে গেল। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে আরও একবার দেখা হওয়ার ইচ্ছেটুকুই আজ স্মৃতি হয়ে রইল।
নানার আত্মার শান্তি কামনা করে শাহরুখ (Shah Rukh Khan) জানিয়েছেন, অসাধারণ একজন অভিনেতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন অপরাজেয় ক্যারাম চ্যাম্পিয়নও। তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু একজন শিল্পী নয়, হারিয়ে গেলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর কথা শাহরুখ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হৃদয়ে ধরে রাখতে চান।
নানার (Nana Patekar) প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন সলমন খানও। ‘খামোশি’ ছবিতে নানার সঙ্গে স্ক্রিন ভাগ করেছিলেন ভাইজান। তাই এই আকস্মিক মৃত্যু তাঁর কাছেও গভীর ধাক্কা।
শ্রদ্ধা জানাতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছ’টায় মুম্বইয়ে নির্ধারিত নিজের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছেন সলমন। প্রিয় সহ অভিনেতার চলে যাওয়ার দিনে উদযাপনের বদলে শোককেই বেছে নিলেন তিনি।
কয়েক দিন আগেও যিনি জীবনের কথা বলেছিলেন, নাচে-গানে মাতিয়েছিলেন আসর, তিনিই আজ শুধুই স্মৃতি। পর্দায় তাঁর কণ্ঠ, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি হয়তো থেকে যাবে চিরকাল। থেকে যাবে তাঁর (Nana Patekar) বলা সেই কঠিন অথচ সত্যি কথাগুলিও।
আর শাহরুখের (Shah Rukh Khan) কাছে থেকে যাবে একটি বিশেষ বাক্য, ‘তুই অভিনেতা। হিরো হওয়ার নেশায় অভিনেতাকে হারিয়ে ফেলিস না।’ নানা চলে গেলেন। কিন্তু তাঁর সেই শিক্ষা, তাঁর হাসি, তাঁর বকুনি আর তাঁর অভিনয়, হয়তো কোনওদিনই এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে মুছে যাবে না।


