Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বিজেপি (BJP)। সেই সময় দলের রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠকে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, “যো হামারি সাথ, যো হামারি সাথ, হাম উনকা সাথ”। পাশাপাশি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতি বন্ধ করার কথা বলার সঙ্গে সংখ্যালঘু মোর্চার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্যে কি বদল এসেছে? নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই সামনে আসছে। কারণ, ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু। আর ৯ অক্টোবর গণনা শুরু হতেই দুই কেন্দ্রেই বিজেপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রচারে সংখ্যালঘুদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা শুভেন্দুর
নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বন্ধুত্ব করার শুভ দিন ৬ তারিখ। হাত মেলান, বন্ধুত্ব করুন।’’
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, গত ১ অক্টোবর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের শক্তিপুরের রেলের মাঠে প্রচারসভা থেকেও একই বার্তা দেন তিনি। সেখানে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করবেন না। হাত মেলান, বন্ধুত্ব করুন। ৭০/৩০-এর গল্প শুনিয়ে বিভাজন তৈরি করার দিন শেষ। সমস্ত রাষ্ট্রবাদী মানুষ একজোট হয়ে সরকারের পক্ষে ভোট দিন।’’
সেই সভা থেকেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজয়ী প্রার্থীর শংসাপত্র নিজেই কলকাতায় নিয়ে যাবেন। সেই জন্য হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
রেজিনগরে বিজেপির এগিয়ে থাকা ঘিরে আলোচনা
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজ্যের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলিম-বিরোধী রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা এবারের উপনির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
নন্দীগ্রামেও মুসলিম ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ এবং ২ নম্বর ব্লকে প্রায় ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭২ শতাংশ।
এই দুই কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ভোটের আগে শুভেন্দুর বন্ধুত্বের বার্তা থেকে শুরু করে বিজেপির প্রচারে উন্নয়নের প্রসঙ্গ— সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রের একাধিক বুথে বিজেপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।


