Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নবান্নে অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে বৈঠকে বসেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB)-এর শীর্ষ আধিকারিকরা। নতুন বাজেটে ঘোষিত শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের (Infrastructure Development) লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলার জন্য বড়সড় আর্থিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নজরে ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ মডেল
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নীতি আয়োগের সুপারিশ অনুযায়ী ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ (CER) গড়ে তোলার প্রস্তাব। পৌরসভার সীমা ছাড়িয়ে শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক, শ্রমবাজার এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিকে একত্রিত করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির রূপরেখা দিয়েছে এডিবি। বাংলায় অন্তত দুটি সিটি ইকোনমিক রিজিওন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটন বেল্ট, শিলিগুড়ি অঞ্চল, হলদিয়া-দিঘা উপকূলীয় অঞ্চল এবং দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল। (Infrastructure Development)
কোন কোন অঞ্চলের নাম উঠে এল?
কলকাতা-হাওড়া-হুগলি-উলুবেড়িয়া-ডানকুনি এলাকাকে যুক্ত করে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স ও লজিস্টিকস ক্লাস্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারকে নিয়ে উত্তরবঙ্গে আইটি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের কেন্দ্র গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া হলদিয়া-দিঘা অঞ্চলে বন্দরনির্ভর শিল্প এবং দুর্গাপুর-আসানসোলে ভারী শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং হাব তৈরির পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।(Infrastructure Development)
শিল্প করিডোরে জোর
শিল্প করিডোর তৈরির ক্ষেত্রেও আর্থিক সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে এডিবি। সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা-ডানকুনি-দুর্গাপুর-আসানসোল ম্যানুফ্যাকচারিং করিডোর, হলদিয়া-খড়গপুর শিল্প করিডোর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি কৃষি প্রক্রিয়াকরণ করিডোর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের করিডোর শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
দ্রুত নগরায়ণের পথে থাকা শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আধুনিক জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর জল ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে এডিবি বা বিশ্বব্যাঙ্কের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটের পরদিনই এডিবি-র এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের পথে এগোলে শিল্প, পরিকাঠামো, পরিবহণ এবং পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।


