Aaj lndia Desk,কলকাতা: বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এসটিএফ (STF) সূত্রের দাবি, বাইরে থেকে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম একটি বৃহৎ নাশকতার ছকের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ধৃত হামিম এবং তার সহযোগী অর্পিতা সরকারকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিমের কাজ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র গতিবিধির উপর নজর রাখা ছিল না। জেরায় উঠে এসেছে, দিল্লির একাধিক ভিআইপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে এই পরিকল্পনা এগোচ্ছিল এবং অগস্ট মাসে হামলার সম্ভাব্য ছক তৈরি করা হয়েছিল।
এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনারও ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই পোশাক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জেরায় আরও উঠে এসেছে, সম্ভাব্য নাশকতার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও প্রস্তুতি চলছিল। তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতা সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রের তরফে ইতিবাচক সংকেতও দেওয়া হয়েছিল।
ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেন্সিক বিশ্লেষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ Session এবং Element X ব্যবহার করত। পাশাপাশি, কয়েকটি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ‘আবিদ জাট’ ও ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, দেশের ভিতরে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে এসটিএফ। তদন্ত এখনও চলছে।


