Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি। বিধানসভায় কে হবেন বিরোধী দলনেতা (LoP) তাই নিয়ে লড়াই চরমে। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলেও ভাঙন ধরেছে। অপারেশন লোটাসের ধাক্কায় বেসামাল তৃণমূলের হাত থেকে চলে গেছে প্রধান বিরোধী দলের মুকুট।তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনেরও বেশি বিধায়ককে নিয়ে নব্য তৃণমূল গড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে প্রধান বিরোধী দল ও দলনেতার সম্মান চেয়ে চিঠিও পাঠান ঋতব্রত। ফলে স্পিকার তাঁকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এই নিয়েই আদালতে যায় তৃণমূল।
আদালত কি জানালো?
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতের প্রশ্ন, কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া স্পিকার কীভাবে একজনকে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন? তাও আবার একজন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ককে? বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, স্পিকার যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দিয়েও থাকেন, তবে সেই সংক্রান্ত কোনো অফিসিয়াল নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি কেন এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি? এই ধরনের সিদ্ধান্ত কি সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়? রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে,বিধানসভার নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে আদালতের চাওয়ামতো সমস্ত নথিপত্র এবং রেকর্ড পেশ করা হবে। এর জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় দরকার।
এরপর কী?
আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১৬ জুন। ওই দিনের মধ্যে স্পিকারের নির্দেশের সমস্ত কপি ও হলফনামা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতার (LoP)আসন বরাদ্দের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, স্পিকারের দেওয়া মূল নির্দেশনামাটি না দেখে আদালত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করবে না। পশ্চিমবঙ্গের ১৮ জুন থেকে নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে তার আগে এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আশা করছে সব পক্ষই।


