কলকাতা: ভারতের ঐতিহ্য, বৈদিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্মৃত অধ্যায় এবং জাতীয়তাবাদের মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছে বিজেপি। সে প্রধানমন্ত্রী হন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য অথবা গেরুয়া শিবিরের যে কোনও নেতা-মন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এতদিন তাঁদের এই অভিযোগ কিছুটা হলেও বেশি ছিল।
তবে এখন সময় বদলেছে। এখন তাঁরাই রাজ্যের অভিভাবক। যেমন করে ইচ্ছে রাজ্যকে সাজাতে পারবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি—বিগত দেড় দশকের মরচে সরিয়ে ঝাঁ চকচকে করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাজ্যের নতুন শাসকদল। লক্ষ্মীবারেই মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়ে গিয়েছেন ৩৫ জন বিধায়ক। যার মধ্যে জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী হয়েছেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gourishankar Ghosh)। পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগারগুলির খোলনলচে পরিবর্তন নিয়ে কি বললেন তিনি?
গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের (Gourishankar Ghosh) দাবী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর অবদানকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাই গ্রন্থাগারগুলির পুনর্নবীকরণের পর সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখপাধ্যায়ের বই রাখা হবে। সেইসঙ্গে থাকবে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বই। গৌরীশঙ্করের (Gourishankar Ghosh) দাবী, বাংলার এই মনীষীদেরও ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল। তারা একনায়কতন্ত্র মানসিকতা নিয়ে চলেছে।
সরানো হবে ‘এপাং ওপাং ঝপাং’
গৌরীশঙ্কর (Gourishankar Ghosh) আরও বলেন, রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিতে আর ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই রাখা হবে না। তাঁর কথায়, “এপাং-ওপাং-ঝপাংয়ের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা যে বইগুলি পড়ে ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞান অর্জন করবে না, সেগুলি লাইব্রেরি থেকে সরানো হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, লাইব্রেরিগুলির আধুনিকীকরণ করা হবে এবং সেখানে জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, আধুনিক বিজ্ঞান ও বাংলার মনীষীদের উপর লেখা বইকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে রাজ্যজুড়ে ই-লাইব্রেরি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, ছাত্রছাত্রীদের সামনে ভারতের গৌরবময় অতীতের বদলে ‘বিকৃত ইতিহাস’ তুলে ধরা হচ্ছে। শুধু বিজেপি নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন সময়ে দেশের ইতিহাসকে নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ফলে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে এখন জোর চর্চা, এবার কি ‘বিকৃত ইতিহাস’ সরিয়ে জাতীয়তাবাদভিত্তিক নতুন পাঠক্রমের পথে হাঁটবে বাংলা?


