Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁসের (NEET Paper Leak) অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রকৃত পড়ুয়াদের (Students) বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে চায় না কেন্দ্র। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা গুরুতর অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই অবস্থান জানায় কেন্দ্র।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির বিষয়ে আবেদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। তবে যাঁরা আন্দোলনের আড়ালে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়েছেন, তাঁদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আবেদনকারীদের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার আদালতে বলেন, প্রতিটি মামলায় আলাদা করে ক্লোজার রিপোর্ট জমা দিতে হলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ হবে। তিনি আরও জানান, পাটনার একটি মামলায় প্রায় ৫ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তাই এই ধরনের মামলায় এফআইআর বাতিল করা হবে, নাকি প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ চাওয়া হয়।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রথমে তদন্ত করে প্রকৃত ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের মামলা আলাদা করা প্রয়োজন। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, ‘ক্রিমিনাল হিস্ট্রি’ বলতে খুন, হিংসা বা অন্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগকে বোঝানো হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা ছোটখাটো মামলাকে সেই তালিকায় ধরা যাবে না।
শুনানিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের কোনওভাবেই রক্ষা করা হবে না। অভিযোগের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হবে, নাকি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে আলাদা কমিটি তৈরি হবে, তা আদালত বিবেচনা করছে।
এদিন মুখের ছবি শনাক্তকরণ বা ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারির বিষয়টিও আদালতে ওঠে। আবেদনকারীদের দাবি, মানুষের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের মুখের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তুলছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর করা হয়নি, মাঠপর্যায়েও তথ্য যাচাই করা হয়েছে। মোট ২,৭৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, প্রকৃত পড়ুয়াদের অযথা হয়রানি করা যাবে না। তবে শুধুমাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অজুহাতে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ অগস্ট। তার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।


