29.4 C
Kolkata
Monday, August 3, 2026
spot_img

‘আমার নাতি জঙ্গি হতে পারে না!’ হামিমের বন্ধু আদিত্যর গ্রেফতারি মানতে পারছে না পরিবার!

কলকাতা: হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের একটি পাঁচতলা আবাসন। সেখানেই থাকতেন কলেজপড়ুয়া আদিত্য সিং (Aditya Singh)। পরিবারের দাবি, শান্ত, ভদ্র এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছেলে। কিন্তু বেঙ্গল এসটিএফ-এর তদন্তে সেই আদিত্যর নাম উঠে এসেছে জইশ-যোগে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) সহযোগী হিসেবে। আর সেই অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকেই কার্যত ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।

শনিবার গভীর রাতে আচমকাই আদিত্যদের ফ্ল্যাট ঘিরে ফেলে পুলিশের একটি বড় দল। পরিবারের দাবি, রাত প্রায় ১২টা নাগাদ ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশকর্মী বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালান। এরপর আদিত্যকে (Aditya Singh) আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তল্লাশির সময় তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

রবিবার রাতে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।সবচেয়ে ভেঙে পড়েছেন আদিত্যর দিদিমা মীরা সিং। ছোটবেলা থেকে নাতিকে নিজের হাতে মানুষ করেছেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর দাবি, “আমার নাতি কোনও খারাপ কাজ করতে পারে না। কেন ওকে জঙ্গি বলে ধরল, আমি বুঝতে পারছি না।” পরিবারের সদস্যদেরও দাবি, আদিত্যর (Aditya Singh) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

প্রতিবেশীদের অনেকেই একই সুরে কথা বলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ জয়সওয়াল জানান, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে ওই পরিবার এলাকায় বসবাস করছে। তাঁর কথায়, “অত্যন্ত ভদ্র পরিবার। কোনওদিন মনে হয়নি ছেলেটি এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে ও পাড়ার লোকজনের সঙ্গে খুব বেশি মিশত না।”

এদিকে, জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন নাম উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। সেই সূত্র ধরেই আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। সোমবার সকালে হাওড়া থানার পুলিশও আদিত্যর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানা গিয়েছে, জঙ্গি হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) সঙ্গে একটি গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল হাওড়ার কলেজপড়ুয়া আদিত্যর।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই হামিম আদিত্যর মগজধোলাই করে তাকে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দেয়। অভিযোগ, রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের তথ্য হামিম এবং তার বান্ধবী অর্পিতার কাছে পৌঁছে দিত আদিত্য (Aditya Singh)। হামিম (Hamim Mondal) ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যর নাম সামনে আসে।

এরপর হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। ধৃত আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে বর্ধমানের একটি জিম থেকে হামিম এবং ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তার বান্ধবী অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন