Aaj India Desk, কোচবিহার: মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কোচবিহারে (Coochbehar) গেলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রবিবার সাগরদিঘির পাশে ‘চায়ে পে চর্চা’য় যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই পঞ্চায়েতের কাজ, প্রশাসনিক বৈঠক এবং দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি কাজে কোনও ধরনের দুর্নীতি (Corruption) বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
দিলীপ ঘোষ বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে এলেন তিনি। জেলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর বলে জানান তিনি। রবিবার তাঁর একাধিক সরকারি কর্মসূচি রয়েছে।
কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের প্রায় ৬৫০ জন আধিকারিককে নিয়ে রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। বিভিন্ন দফতরের কাজ কতটা ঠিকভাবে চলছে, বৈঠকে তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের অডিটও পরীক্ষা করা হবে বলে জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
কোথাও হিসাবের গরমিল, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে সরকারি অর্থ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একইসঙ্গে দলের কর্মীদেরও কোনও ধরনের দুর্নীতিতে না জড়ানোর জন্য সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাহুল গান্ধীকে বাংলায় আসার আহ্বান
রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন নিয়েও এদিন মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সব দলেরই প্রচার করা উচিত এবং ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বাংলায় এসে প্রচার করার আহ্বানও জানান তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, বাংলায় কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, রাহুল গান্ধী বাংলায় এসে প্রচার করলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
মমতার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ
প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীরাই তাঁর সঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, আদালতে যাওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ বাধা দিচ্ছে না। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট—যেখানেই তিনি যেতে চান, যেতে পারেন।
‘বিরোধী দল কোথায়?’ প্রশ্ন দিলীপের
রাজ্যের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধীদেরও নিশানা করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ময়দানে বিরোধীদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। শুধু অভিযোগ করে নয়, রাজনৈতিক লড়াইয়ে সরাসরি মাঠে নামতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে। মানুষ সুযোগ পেয়ে তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে। এখনও সেই পথেই চলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে আইন নিজের নিয়মেই কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
শালবনী মামলা নিয়েও দিলীপের মন্তব্য
শালবনী জমি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বয়ান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। সুমিত রায়ের বয়ান অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শালবনীর জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির টাকা দলীয় অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, শালবনী-সহ বিভিন্ন ঘটনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে এবং তদন্ত যত এগোবে, আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।


