নয়াদিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন খাস স্বাধীনতা দিবসের দিনেই নাকি জাতীয় গানের অবমাননা করেছেন কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)! যাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের আগুনে কার্যত ঘৃতাহুতি পড়েছে! এবার তার পৌঁছে গেল সোজা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের দরজায়।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানকে মাঝপথেই থামানোর ইশারা করছিলেন সোনিয়া গান্ধী! কংগ্রেস অবশ্য সেই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে। এর মধ্যেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gandhi) চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধর তথা বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আর সেই চিঠিকে ঘিরেই নতুন করে তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
‘দেশ ও বাঙালির অপমান’, বিস্ফোরক বঙ্কিমের বংশধর
সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠি প্রসঙ্গে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দেশের পাশাপাশি বাঙালি সমাজেরও অপমান। তাঁর কথায়, ‘আমার পুরো পরিবার কষ্ট পেয়েছে।’ সোনিয়া গান্ধীর কাছে বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহি এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি। শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই থামেননি সুমিত্র। তাঁর দাবি, সরাসরি সোনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gandhi) ই-মেল পাঠিয়েছেন তিনি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও সেই মেলের কপি দিয়েছেন।
‘ইতালীয় সংস্কৃতি ভোলেননি’—বিতর্ক আরও তীব্র
চিঠির প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পরও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ‘ইতালীয় সংস্কৃতি’ ভুলতে পারেননি।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগের কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেদিকেই নজর।
‘ভোটব্যাঙ্ক’ ইস্যুতে শুভেন্দুর নিশানা
‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) বিতর্কে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীও। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর বিরক্তি প্রকাশ্যে এসেছে। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করার জন্যই এমন অবস্থান নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় কংগ্রেস হাইকমান্ডের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তবে কংগ্রেসের পাল্টা বক্তব্য, ঘটনাটিকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, অনুষ্ঠানের সময় সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) খাড়গের জন্য চেয়ার খুঁজছিলেন, ‘বন্দে মাতরম’ থামানোর জন্য নয়।
ভিডিও ঘিরেই যত বিতর্ক
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামনে আসার পরই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। ভিডিওতে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং পরে রাহুল গান্ধীর কিছু ভঙ্গিমা নিয়েই প্রশ্ন তোলে বিজেপি।
বিজেপির অভিযোগ, জাতীয় সঙ্গীত নয়, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পুরোটা গাওয়া বা বাজানো নিয়েই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের আপত্তি ছিল। কংগ্রেস অবশ্য সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়।
বঙ্কিমের পরিবারের চিঠিতে নতুন মোড়
‘বন্দে মাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর সরাসরি সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি পাঠানোয় বিতর্কে আবেগের মাত্রাও বেড়েছে। একদিকে বিজেপির অভিযোগ, ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো জাতীয় গানের প্রতি অসম্মান, অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, বঙ্কিমের পরিবারের এই বিস্ফোরক চিঠির পর কি সোনিয়া গান্ধী বা কংগ্রেসের তরফে কোনও জবাব আসবে? নাকি স্বাধীনতা দিবসের ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেবে?স্বাধীনতা দিবস পেরিয়েও তাই ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে বিতর্কের আঁচ কমার বদলে যেন আরও বাড়ছে।


