Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : নির্বাচনের আবহে রাজ্য রাজনীতির পারা চড়িয়ে প্রচারের ময়দানে বিজেপি (BJP) কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও হলদিয়ার মঞ্চে একাধিক গ্যারান্টি সামনে রেখে ভোটের আগে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রতিশ্রুতির ঝুলি বাস্তবে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারবে কিনা তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ালেন মোদী
দক্ষিণবঙ্গের হলদিয়ায় সভা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচারের সুর আরও চড়ান। এর আগে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে যেভাবে আক্রমণ শুরু করেছিলেন, হলদিয়াতেও সেই একই ধার বজায় রাখেন তিনি। সভা শুরুতেই বাংলায় বক্তব্য রেখে জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলার আকাশ-বাতাসে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে উন্নয়নের বদলে রাজ্যে দুর্নীতি, তোষণনীতি এবং অর্থ পাচার বেড়েছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল সংবিধান বা আইন মানে না।” তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সেই লক্ষ্যে বিজেপি (BJP) কাজ করবে বলে দাবি করেন।
‘৬ গ্যারান্টি’র মোড়কে কড়া বার্তা
সভা থেকে বিজেপির (BJP) তরফে ছয়টি মূল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। প্রতিটি প্রতিশ্রুতির মধ্যেই প্রশাসনিক পরিবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ও আর্থিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলার ইঙ্গিত রয়েছে।
- ভয়ের রাজনীতি বন্ধ করে ‘বিশ্বাসের সরকার’ গঠন করা হবে।
- জনতার কাছে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা হবে।
- দুর্নীতি ও নারীর প্রতি অন্যায়ের সমস্ত অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
- দুর্নীতিতে জড়িত যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
- শরণার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
- সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নির্বাচনী কৌশলে স্পষ্ট বার্তা
সভা শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “যারা বছরের পর বছর দুর্নীতি ও হিংসার সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। কাউকে ছাড়া হবে না।” এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে তাঁর বার্তাকে কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হলদিয়ার এই সভা থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশল আরও স্পষ্ট করল। এখন দেখার, ‘৬ গ্যারান্টি’ এবং দুর্নীতিবিরোধী বার্তা ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে।


