Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : একসময় অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার। সেখান থেকে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী, কাউন্সিলর, বিধায়ক, রাজনীতির ময়দানে দ্রুত উত্থান হয়েছিল নৈহাটির সনৎ দের (Sanat Dey)। এবার সেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককেই গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে দত্তপুকুর থেকে সনৎ দে-কে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
হেল্পার থেকে রাজনীতির মঞ্চে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনৎ দে (Sanat Dey) দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর পেশা ছিল অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার। ২০২১ সালে তাঁকে নৈহাটি টাউন তৃণমূল যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূত্রেই তৎকালীন নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের নজরে আসেন সনৎ। এরপর ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক পরিসরে তাঁর গুরুত্ব বাড়তে থাকে।
বিধায়ক হলেন উপনির্বাচনে
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে পার্থ ভৌমিক সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর নৈহাটি বিধানসভা আসনটি খালি হয়। সেই উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হন সনৎ দে (Sanat Dey)। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নৈহাটি কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল। একসময় কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন সনৎ।
সম্পত্তির হিসাবেও নজর
২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, সনৎ দের ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪.৩ কোটি টাকা। তাঁর দায় রয়েছে প্রায় ৫৯.৭ লক্ষ টাকা। বার্ষিক আয় হিসেবে তিনি প্রায় ২৫.৮ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিলেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে। হলফনামাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা বিচারাধীন থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মামলাকে গুরুতর প্রকৃতির হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
উঠেছে তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ
সনৎ দেকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ২০২১ সালের বিধানসভা-পরবর্তী হিংসার একটি মামলাতেও সনৎ দের নাম জড়িয়েছিল। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও তাঁর বিরুদ্ধে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ তুলেছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূলের শাসনকালে সনৎ দেকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই সময় পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। ,সরকার বদলের পর সনৎ দে-কে ঘিরে স্থানীয় ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে আসে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর দলীয় কার্যালয় খুলতে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ভোরবেলায় দত্তপুকুর থেকে সনৎ দেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার থেকে তৃণমূলের যুব সংগঠনের পদ, কাউন্সিলর, বিধায়ক সনৎ দে-র রাজনৈতিক উত্থান যেমন দ্রুত, তেমনই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিও দীর্ঘদিন ধরে নৈহাটির রাজনীতিতে চর্চার বিষয়। এবার গ্রেপ্তারির পর সেই পুরনো অভিযোগগুলিই ফের নতুন করে চর্চায় এসেছে।


