32.8 C
Kolkata
Sunday, August 9, 2026
spot_img

‘এনডিএ-র শরিক নই, ভবিষ্যৎ সময় বলবে’-নবান্ন থেকে স্পষ্ট বার্তা আবু-খলিলুরের

Aaj India Desk, হাওড়া: শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদরা। সেখানে মুর্শিদাবাদের তিন ‘বেসুরো’ সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানও উপস্থিত ছিলেন। তার ঠিক একদিন পর, শনিবার নবান্নে দেখা গেল আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করেন। পরপর দু’দিনের এই দুই ঘটনা ঘিরেই বঙ্গ রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

গত কয়েকদিন ধরেই আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে এনডিএ-তে তাঁরা যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার দিল্লিতে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকী, তাঁরা ফের কালীঘাটের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পারেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার ছবিটা কিছুটা বদলায়। ওই দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিন সাংসদ। সেই বৈঠকে শতাব্দী রায় এবং অসিত মালও ছিলেন। তার পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেন তাঁরা। ফলে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনাও কিছুটা থিতিয়ে আসে। কিন্তু শনিবার আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের নবান্ন সফর ফের সেই প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। কেন তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

শুক্রবার মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর আবু তাহের জানিয়েছিলেন, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরা পশ্চিমবঙ্গ তথা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি। রাজ্যে সংখ্যালঘুরা নানা ভাবে অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রাতরাশ বৈঠকে সাংসদদের নিজেদের লোকসভা এলাকায় আরও বেশি সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সাংসদদের নিজেদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও নজর রাখতে বলেন তিনি।

অন্যদিকে, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগেই নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই ওই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কোনও রাজনৈতিক বার্তা খোঁজা ঠিক নয় বলেই তাঁর অবস্থান।

তবে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরের দিনই আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের নবান্নে যাওয়া ফের রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে তাঁদের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন দুই সাংসদ। তাঁরা বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা এই দলে থাকব কি থাকব না, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে।”

নিজেদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবু তাহের বলেন, লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই উল্লেখ করছেন। সংসদে বক্তব্য রাখার সময়ও তাঁদের নামের পাশে এআইটিসি-র পরিচয়ই রয়েছে। তিনি বলেন, “কাগজে-কলমে এনসিপিআই কিন্তু এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক নয়। এনডিএ-র বৈঠকে ডাকলে অবশ্যই যেতাম, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না।”

SIR ও মসজিদের মাইক নিয়ে নবান্নে আলোচনা

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কারণও স্পষ্ট করেন দুই সাংসদ। তাঁদের দাবি, মূলত রাজ্যে চলা SIR প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ থেকে মাইক ও লাউডস্পিকার খুলে দেওয়ার বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। SIR নিয়ে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের বক্তব্য, বহু সাধারণ এবং পিছিয়ে পড়া মানুষ এখনও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। ফলে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম দফায় প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের নাম তোলার কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আরও প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষের কাছেই তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন।

মসজিদ থেকে মাইক ও লাউডস্পিকার খোলার বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই সাংসদ। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের কিছু অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন বলে দাবি দুই সাংসদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিশানা করা হবে না এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাঁরা আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

তবে দুই সাংসদ একইসঙ্গে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকার কোনও ভালো কাজ করলে তাঁরা অবশ্যই তার পাশে থাকবেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদ-সহ গোটা রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থে আঘাত আসে, এমন কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।

আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের এই বক্তব্যের পর তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ল। তাঁরা এনসিপিআই-তেই থাকবেন, নাকি আগামী দিনে অন্য কোনও রাজনৈতিক পথে যাবেন—এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন