Aaj India Desk, কলকাতা : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার তদন্ত আরও জোরদার করলো প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে গোডাউন ভেঙে পড়ার নেপথ্যে কারণ খুঁজতে গিয়ে সন্দেহজনক তথ্য উঠে এসেছে লালবাজারের পুলিশের হাতে। সেই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। এমনকি সেই তথ্যের জেরে ইতিমধ্যেই ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন ও সন্দেহজনক বহুতল নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। (Taratala Incident)
নকশার গাফিলতির কারণেই বিপর্যয় ?
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশের দাবি, গুদামের নকশা এবং কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেই মৌলিক ত্রুটি ছিল। শিবপুর IIEST-এর প্রাক্তন রেজিস্ট্রার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, প্রাথমিকভাবে এটি গুরুতর ডিজাইনজনিত ব্যর্থতা বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ফাউন্ডেশন, কলাম ও বিম যথাযথভাবে নির্মিত হলে শুধুমাত্র ঝড়-বৃষ্টির চাপেই এমন কাঠামো ভেঙে পড়ার কথা নয়। ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।(Taratala Incident)
পাশাপাশি পুরসভার তালিকাভুক্ত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকারের দাবি, ঘটনাস্থলের কাঠামো দেখে মনে হচ্ছে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্রেসিংয়ের অভাব ছিল। তাঁর মতে, বড় স্টিল স্ট্রাকচারে যে ধরনের সুরক্ষামূলক সংযোগ ব্যবস্থা থাকা দরকার, তার অনেকটাই অনুপস্থিত বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জয়েন্টিং, বোল্টের নকশা এবং স্থাপনের পদ্ধতি ঠিক ছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর দাবি, ওভারলোডের ফলে জংশন অংশ ছিঁড়ে গিয়ে গোটা কাঠামো ধসে পড়ে থাকতে পারে।
সিট তদন্তে গ্রেপ্তার চার
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর গুদামের সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন এবং খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। (Taratala Incident)
পাশাপাশি নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের পর এই প্রকল্পের নকশা ও কাঠামোগত পরিকল্পনায় কারা অনুমোদন দিয়েছিলেন তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। লালবাজারের হাতে ইতিমধ্যেই অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের তালিকা পৌঁছেছে। ফলে দ্রুত তাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে শুধুই প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নাকি নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম বা দুর্নীতির যোগ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে লালবাজার। সিট, পুরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর।


