Aaj India Desk, কলকাতা : পড়াশোনার পরিবেশ, অনিয়মিত ক্লাস, ৪ বছরের অনার্স পাঠক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের অংশগ্রহনে চাপ নিয়ে এবার একাধিক অভিযোগ শোনা গেলো সুরেন্দ্রনাথ কলেজের (Surendranath College) পড়ুয়াদের মুখে। কলকাতার নামকরা এই কলেজের বাংলা বিভাগের পড়ুয়াদের দাবি, বর্তমানে পড়াশোনার পরিবর্তে কলেজে রাজনৈতিক ও অন্যান্য কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের যুক্ত করার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির আওতায় র্যালিতে যাওয়ার জন্য ফর্ম পূরণে বাধ্য করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহনের চাপ
গত তিন বছর ধরে কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মিছিল ও কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হত। কখনও কখনও ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের অংশগ্রহণ করানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির কথা তুলে এক পড়ুয়া দাবি করেন, র্যালিতে যাওয়ার জন্য একটি ফর্ম পূরণ করতে তাঁদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভয় দেখিয়ে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পড়াশোনার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ক্লাস ও সেমিনারের অভাবের কথা তুলে ধরেছেন বাংলা, ইংরেজি বিভাগের পড়ুয়ারা। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে শিক্ষামূলক পরিকাঠামো বা পরিষেবা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
বাংলা বিভাগ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের (Surendranath College) বাংলা বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, তিন বছরে একবারও নিয়মিত ক্লাস হয়নি। পর্যাপ্ত ক্লাস না হওয়ায় নিজেদের উদ্যোগেই পড়াশোনা চালাতে হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য এবং অপমান করারও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তাঁদের সিলেবাস সম্পূর্ণ করানো হত না বলেও জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী।
পড়ুয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমল থেকেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (Surendranath College) পড়াশোনার তুলনায় রাজনৈতিক কার্যকলাপ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন সরকার বদলালেও সেই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচির ঊর্ধ্বে উঠে একটি কলেজ তার পড়ুয়াদের শিক্ষা, নিয়মিত পাঠদান এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারছে না কেনো সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।


