Aaj India Desk, কলকাতা : তারাতলার (Taratala Incident) ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় ক্রমশ বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। আহত হয়েছেন বহু শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় টানা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ। এরই মধ্যে ঘটনার নেপথ্যে নির্মাণে গাফিলতি এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, নির্মাণাধীন অবস্থাতেই এত বড় কাঠামো ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, ভবনটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর ব্যবহার শুরু হলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত। ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তদন্তে সিট, গ্রেফতার তিন
তারাতলার ঘটনার (Taratala Incident) তদন্তে গতকাল রাতেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুদামের সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরী।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নির্মাণকাজে একাধিক স্তরে অনিয়ম বা গাফিলতি থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
নির্মাণ পরিকল্পনায় ত্রুটির ইঙ্গিত
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্টে নির্মাণ পরিকল্পনায় গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক এবং সন্দেহজনক বহুতল নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত মান যাচাই করতে বিশেষ অডিট চালানো হবে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে শুধুমাত্র নির্মাণ ত্রুটি নাকি তার সঙ্গে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।


