Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: বুধবার ভোরের অন্ধকার কাটতে না কাটতেই রাজধানী দিল্লির রোহিণীতে নেমে এল মর্মান্তিক বিপর্যয়। মাঙ্গেরাম পার্ক এলাকার একটি ঝুপড়ি বস্তিতে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে একের পর এক ঘর, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি পরিবার। ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার হয় স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের ছোট্ট কন্যার নিথর দেহ। ভোরের নিস্তব্ধতায় এমন করুণ পরিণতি স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা এলাকা।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল ও পুলিশ। এলাকায় এখনো আতঙ্কের ছায়া, চোখে জল নিয়ে প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন। কিন্তু সঙ্কীর্ণ গলির কারণে ভিতরে ঢুকতে সমস্যায় পড়তে হয় দমকল কর্মীদের, ফলে আগুন নেভানোর কাজে বিলম্ব হয়।দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় গুদাম-সহ একাধিক ঝুপড়ি। আগুনের ভয়াবহতায় প্রাণ হারান ঝুপড়িতে বসবাসকারী এক পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।ঘটনার পর গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৪০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে প্লাস্টিকের স্ক্র্যাপ ও আবর্জনা মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই একই এলাকায় গড়ে উঠেছিল একাধিক ঝুপড়ি ঘর। অনুমান করা হচ্ছে, ওই দাহ্য বর্জ্যের স্তূপ থেকেই আগুনের সূত্রপাত।প্রশাসন জানিয়েছে, সরু গলি ও অত্যন্ত ঘনবসতির কারণে দমকলের কাজে বড়সড় বাধা তৈরি হয়। বড় ইঞ্জিন সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে না পারায় আগুন নেভাতে যথেষ্ট সময় লেগে যায় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়।ঘটনার পর দ্রুতই এলাকায় পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী, স্থানীয় পুলিশ, সেন্ট্রালাইজড অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিস (CATS) এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। যৌথভাবে শুরু হয় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ।তবে এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।


