Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : এই মাস শুরু হতে না হতেই উঠে এসেছে একের পর এক পরীক্ষা বিভ্রাট। প্রথমে NEET এর প্রশ্নফাঁস হওয়ায় দেশ জুড়ে চলেছিল বিক্ষোভ। তারপর CBSC পরীক্ষা নিয়েও তৈরি হয় সমস্যা। একাধিক কারণে বাতিল করা হয় সেই পরীক্ষাটিও। এবার ফের বিতর্ক তৈরি হলো কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে। দেশজুড়ে চলতে থাকা CUET UG 2026 পরীক্ষায় শনিবার সকালে একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়। দিল্লি, নয়ডা, বারাণসী, অম্বালা, ব্যাঙ্গালুরু ও কানপুর-সহ কয়েকটি শহরের পরীক্ষার্থীরা সমস্যার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)।
কোথায় কী সমস্যা হল?
NTA সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি অংশীদার TCS (Tata Consultancy Services)-এর তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়। এর ফলে মূলত সকালের শিফটের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিছু কেন্দ্রে দুই ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পরীক্ষা শুরু হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর NTA জানায়, প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। যেসব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বিলম্বিত হয়েছে, তাঁদের পূর্ণ সময় দেওয়া হয়েছে যাতে পরীক্ষার সময়সীমা নিয়ে কেউ অসুবিধার মুখে না পড়েন। পাশাপাশি বিকেলের শিফটের সূচিও সংশোধন করা হয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন রিপোর্টিং সময় ও পরীক্ষা শুরুর সময় নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। CUET UG 2026 এর বাকি পরীক্ষাগুলি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সমালোচনায় মুখর বিরোধী রাজনৈতিক দল
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ও NTA-র ভূমিকা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি-সহ বিভিন্ন দলের নেতারা সাম্প্রতিক বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় দেখা দেওয়া সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলিতে বারবার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সমস্যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষা হিসেবে CUET UG-তে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলে সামান্য প্রযুক্তিগত সমস্যাও বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। শনিবারের এই বিভ্রাটের জেরে অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, জাতীয় স্তরের অনলাইন পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।


