Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই ও এবিভিপির সংঘর্ষের (Jadavpur University Clash) প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর থানায় গেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসের সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এফআইআর দায়ের করেছেন। বুধবার মধ্যরাতের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভেঙে মাটিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও এফআইআরের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শতদল প্রতীক ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ
বুধবার রাতে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুরের ক্যাম্পাস। সেই সময়ই ভেঙে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতদল প্রতীক। ঘটনায় পড়ুয়া, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।এবার ক্যাম্পাসের সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় বিষয়টি আইনি পথে এগোল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর পড়ুয়ারা পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন। সেই সময় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতের অন্ধকারে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বহিরাগতদের চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। (Jadavpur University Clash)
বৃহস্পতিবার সকালে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। (Jadavpur University Clash)
যদিও সংঘর্ষের পর ৩৭ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এফআইআর দায়ের হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পড়ুয়াদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এতটা সময় লাগল কেন? বুধবার মধ্যরাতের ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তার মধ্যেই শতদল প্রতীক ভাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে ঘটনার পরপরই কেন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল না, কেন প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেল না, এই প্রশ্নের উত্তর এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই চাওয়া হচ্ছে।


