37.5 C
Kolkata
Monday, June 29, 2026
spot_img

৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজি! গ্রেপ্তার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর!

Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর শামস ইকবাল (Shams Iqbal) ওরফে অনিলকে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করলো গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। ঘটনায় একাধিক ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃত কাউন্সিলরকে আজই আদালতে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

কী অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ জুন মামলা দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, শামস ইকবাল (Shams Iqbal) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালানোর নামে ৭০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরও বারবার অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

একাধিক অভিযুক্তের নাম, অস্ত্র আইনেও মামলা

এই মামলায় শামস ইকবাল (Shams Iqbal) ছাড়াও মহম্মদ ফারাজ (ওরফে বুন), ফিরোজ কুরেশি (ওরফে চুড়ি ফিরোজ) এবং আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর তোলাবাজি ও অপরাধমূলক ভয় দেখানোর ধারাসহ অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, শামস ইকবালের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়ে তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন। এছাড়া বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে গার্ডেনরিচে একটি বহুতল ভবন ধসের ঘটনাতেও তাঁর নাম রাজনৈতিক বিতর্কে উঠে আসে। যদিও সেই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আদালত-প্রমাণিত অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া তাঁর বাবা মুন্না ইকবালের বিরুদ্ধেও অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, যার মধ্যে গার্ডেনরিচের পুলিশকর্মী তাপস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাম জড়ানোর অভিযোগও ছিল।

শামস ইকবালকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন