Aaj India Desk, হুগলি: মাত্র দু’বছর আগেই সক্রিয় রাজনীতিতে (Politics) পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। সেই সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন এবং হুগলি (Hooghly) লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন NCPI-তে। এরপর থেকেই প্রাক্তন দলের একাধিক নেতার কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার মুখ খুলে বিস্ফোরক দাবি করেন রচনা। তাঁর কথায়, তিনি শুধুমাত্র তৃণমূলের প্রতীক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের জোরে জেতেননি। বরং নিজের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং তারকা পরিচিতির কারণেই হুগলির মানুষ তাঁকে ভোট দিয়েছেন।
রচনার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন একজন জনপ্রিয় মুখকে প্রার্থী করলে ভোটে সুবিধা হবে। তাই তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, যদি শুধু দলের প্রতীকই জয়ের জন্য যথেষ্ট হতো, তাহলে যে কাউকে প্রার্থী করা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি, কারণ তাঁর পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতাই ছিল দলের বড় ভরসা।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে দল যেমন ব্যবহার করেছে, তিনিও নিজের জনপ্রিয়তা দিয়ে দলকে সেই আসন জিততে সাহায্য করেছেন। শুধুমাত্র দলের প্রতীক নিয়ে কোনও অচেনা প্রার্থীকে দাঁড় করালে একই ফল হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
এক সময় ‘দিদি নম্বর ১’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ছবি সামনে এসেছিল। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন। পরে লোকসভার টিকিট পান এবং নির্বাচনে জয়ী হন। তবে এখন তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
রচনা আরও বলেন, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে যদি তিনি জানতেন যে দলকে ঘিরে বালিচুরি, কয়লাচুরি বা মাটিচুরির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে, তাহলে হয়তো সেই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তই নিতেন না।
রচনার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এমন একজনকেই সাংসদ করা হয়েছিল। এখন ওকে ‘দিদি নম্বর ১’ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। ও কী বলছে, সেটার কোনও ঠিক নেই। সত্যিই যদি এত সাহস থাকে, তাহলে আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আন্দোলন করুক।”


