Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-র আবেদনপত্র ইতিমধ্যেই অনলাইন ও অফলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম এবং তাতে থাকা নানা ধরনের তথ্য (Information) চাওয়ার কারণে অনেক আবেদনকারীর মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এত তথ্য কেন দিতে হবে এবং এই তথ্য দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)-এর সুবিধা পেতে কোনও সমস্যা হবে কি না?এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শনিবার বিনামূল্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অযথা গুজবে কান দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারও ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হলে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই কাজে সাহায্য করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সরকারের লক্ষ্য হল প্রকৃত ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তাই আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করার পরেই এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও জমির মালিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, রেশন কার্ডের তথ্য, এমনকি সন্তানদের স্কুল-সংক্রান্ত তথ্যও। এই বিষয়গুলি নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকার আগেই জানিয়েছে, যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী এক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে এমন মানুষও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে সেই সুবিধার জন্য যোগ্য ছিলেন না। এমনকি পুরুষদের নামেও লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই এবার তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারী যে ভারতীয় নাগরিক, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই ১২ পাতার ফর্ম শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নয়। আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্য ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। তাই একবার তথ্য জমা দিলে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।


