Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে (Jadavpur University) ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরের নেতারাই পরস্পরের বিরুদ্ধে সরব। সেই আবহেই শনিবার ভবানীপুরে ‘অন্নপূর্ণা’র একটি অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, জাতীয়তাবাদ এবং বিরোধীদের আন্দোলন—একাধিক বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সংবাদমাধ্যমের একাংশের সমালোচনা বা বিরোধীদের আন্দোলনের চাপে সরকার পিছিয়ে যাবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।
‘বন্দে মাতরম্’ ও জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রশ্ন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে একাধিক বাধা রয়েছে। তিনি বলেন, “যাদবপুরে জানেন বন্দে মাতরম্ বলতে দেওয়া হয় না? জাতীয় পতাকা ওঠে না? শিক্ষা দফতর বা সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে বাধা দেওয়া হয়।”
ক্যাম্পাসে একাংশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যারা ২৬ জানুয়ারি কিংবা ১৫ অগস্ট পালন করে না, তাদের সমর্থনে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যতই সরব হোক, সরকারের অবস্থান বদলাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে এসেছে। রাষ্ট্রবাদ, সনাতন সংস্কৃতি, বন্দে মাতরম্, তেরঙ্গা, রবীন্দ্রনাথ-নেতাজি-বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর ও তারকেশ্বর ধামের আস্থার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না।”
বিরোধীদের আন্দোলন নিয়েও কটাক্ষ
যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন নিয়েও এদিন আক্রমণাত্মক ছিলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল তৈরি করা, ধমক-চমক দেখানো কিংবা অল্প কয়েকজনকে নিয়ে রাস্তায় নামলেই সরকারকে চাপে ফেলা যাবে না।
তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। দলটিকে ‘খণ্ড-বিখণ্ড’ বলে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “পিসির ঘরে তালা ঝুলছে, ভাইপো বিদেশে, আর বাকি নেতারা দিশাহীন হয়ে উত্তর-দক্ষিণে ঘুরছেন। আপনাদের এসব বুদ্ধি চলবে না।”
একইসঙ্গে সিপিএমকেও নিশানা করেন তিনি। দলের পুরনো রাজনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে ‘লাল বাবুদের’ কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে জমা বাজেয়াপ্ত হওয়া দল যাদবপুরকে কেন্দ্র করে যতই আন্দোলন করুক, তার রাজনৈতিক প্রভাব খুব বেশি দূর এগোবে না।
নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ
এদিন নিজের রাজনৈতিক জীবনের পুরনো লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। সিপিএমের দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের সময় কীভাবে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে সিপিএম যখন ২৩৫টি আসন নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে ছিল, তখনও তমলুকে দলের প্রভাবশালী নেতা লক্ষণ শেঠকে তাঁর নিজের এলাকায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন তিনি।
তাই অপপ্রচার কিংবা মিডিয়া ট্রায়াল করে তাঁর সরকারকে দমানো সম্ভব নয় বলেই দাবি করেন শুভেন্দু। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে চলতে থাকা রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই ভবানীপুরের মঞ্চ থেকে কার্যত সেই বার্তাই দেন তিনি।


