Aaj India Desk, নয়াদিল্লী: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের (NEET Paper Leak) অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। শুরু থেকেই তাদের দাবি, এই ঘটনার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আলোচনায় না আসায় গত জুন মাস থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিজিৎ দিপকে-সহ আন্দোলনকারীরা।
এসএফআই, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলও এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সিজেপির দুই মুখপাত্রের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বৈঠক হলেও আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হয়নি। তাই তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।
বুধবার রাতেও যন্তর মন্তরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ করে দিল্লি পুলিশ এবং তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, তাঁদের দাবি থেকে একচুলও সরে আসার প্রশ্ন নেই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলন যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকে, সেই বিষয়ে দিনভর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, কোনওভাবেই বিক্ষোভ হিংসার পথে যাবে না। ওয়াংচুকও আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সৌরভ দাসের অভিযোগ, অতীতে বহু আন্দোলনে শাসকদল-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ঢুকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে। পরে সেই দায় চাপানো হয়েছে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের উপর। তাই যন্তর মন্তরের আন্দোলনেও সবাইকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জেপি নাড্ডার সাংবাদিক বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সৌরভ দাস বলেন, “৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মানুষ যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছেন। অথচ তাঁদের দাবি নিয়ে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি কোনওভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
অন্যদিকে, জেপি নাড্ডা বলেন, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এই বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্বশীল। প্রশ্নফাঁসের ঘটনার কারণ কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যতে যাতে কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ক্ষতি না হয়, সেই সমাধান খুঁজে বের করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে, এসব যুক্তিতে রাজি নন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। তাঁদের একটাই দাবি—নিট প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করুন এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।


