Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় একসঙ্গে আইনি সুরক্ষা বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ (Blanket Protection) চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই আবেদন গ্রহণ করা হল না। আদালত জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে তাঁকে এমন কোনও বিশেষ অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে না।
অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। শুনানির সময় তিনি আদালতকে জানান, ইতিমধ্যেই আরও তিনটি নতুন এফআইআর হয়েছে। তাই প্রতিটি মামলায় আলাদা করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বদলে সব মামলার জন্য একসঙ্গে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া সব মামলার একসঙ্গে কীভাবে শুনানি সম্ভব এবং সব মামলায় একযোগে সুরক্ষা দেওয়ার আইনি ভিত্তি কী। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ থেকেই স্পষ্ট হয়, আপাতত এমন কোনও সামগ্রিক রক্ষাকবচ দেওয়ার পক্ষে আদালত নয়।
এরপর বিচারপতি জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আটটি মামলার ক্ষেত্রেও এদিন কোনও রক্ষাকবচ মেলেনি। ফলে সব মামলায় একসঙ্গে বিশেষ সুরক্ষা চেয়ে করা আবেদন আপাতত খারিজ হয়ে যায়।
শুনানির সময় কপিল সিব্বল একটি পুরনো মামলার নজিরও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষাকবচ দিয়েছিল। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছিল। সেই একই যুক্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা চাওয়া হয়।
তবে আপাতত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৩০ তারিখ। বিচারপতি আরও জানান, এর মধ্যে যদি পুলিশ কোনও মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে, তাহলে সেই বিষয়টি আদালতের নজরে আনা যেতে পারে।


