Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের আগে ফের রাজ্য জুড়ে সক্রিয় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। এর আগেই কয়লা পাচার সহ নানান মামলায় জড়িত অভিযুক্তদের বাড়ি ও অন্যান্য একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম।
নিশানায় কার নাম?
ইডি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালেই কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের গোলপার্ক সংলগ্ন ফ্ল্যাটে পৌঁছন আধিকারিকরা। তল্লাশির পাশাপাশি শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। সকাল ৬টা নাগাদ শুরু হওয়া এই অভিযানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তাঁর বাড়ির পাশের একটি সরকারি ট্রেনিং সেন্টারেও ইডি (Enforcement Directorate) অভিযান চালায় বলে খবর। যদিও সেটি সকাল থেকেই বন্ধ ছিল, পরে তা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আগের মামলার যোগ?
শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পূর্বে কয়লা পাচার মামলায় ইডির তলব পেয়েছিলেন। সেই তলবের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদনও করেন। এছাড়া মেডিক্যাল এনআরআই কোটা ভর্তি দুর্নীতির মামলাতেও তাঁকে ডাকা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে রবিবারের তল্লাশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ইডির ঘন ঘন হানায় উঠছে প্রশ্ন
নির্বাচনের আবহে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগেই দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী এলাকার তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতেও আয়কর দপ্তর তল্লাশি চালায়। দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং নির্বাচনী অফিসে একযোগে তল্লাশি চলে প্রায় ১২ ঘণ্টা। অভিযোগ, তল্লাশির সময় তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়, প্রতিবাদও হয়। এরপর মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। এর পরে ভোটের ঠিক আগে প্রাক্তন ওসির বাড়িতে তল্লাশি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
যদিও এই ঘটনাগুলিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে। তবে পরপর কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তবে ইডির (Enforcement Directorate) তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।


